বান্দরবানে ৫০ একরের অধিক জমিতে পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণের মহাপরিকল্পনা

fec-image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি প্রকৃৃতির মাঝে পর্যটনকে এগিয়ে নিতে পর্যটন কমপ্লেক্স এর জন্য সোনাইছড়ি ইউনিয়নে অন্তত ৫০ একরের অধিক জমি ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ।

এই লক্ষ্যে পর্যটন কমপ্লেক্সের প্রস্তাবিত স্থানের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: আতিকুল হক। শনিবার সকালে তিনি সম্ভাব্য জমি এলাকা পরিদর্শণ করেন। এর আগে সচিব উপজেলা সদরে উপবন পর্যটন কেন্দ্রও ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শন শেষে মোঃ আতিকুল হক পাহাড়ি প্রাকৃৃতিক সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হন এবং পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করেন। এখানে পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে জোর সুপারিশ করবেন বলেও আশ্বাস দেন।

সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি জারুলিয়াছড়ি এলাকায় পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে গত ৩০ জুলাই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: শফিউল্লাহ। ওই আবেদনের পর সরেজমিন সম্ভাব্যতা যাচাই করেছেন সরকারের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আতিকুল হক।

এ সময় তিনি বলেন- সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা গেলে পাহাড়ি জনপদ নাইক্ষ্যংছড়িতে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে আরো বেশি করে ফিসিবিলিটি স্টাডি দরকার আছে।
এদিকে পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে। যার মধ্য রয়েছে নির্ধারিত জমির আশপাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাতায়তে ক্যাবল কার স্থাপন, স্থানীয় অর্থায়নে বাঁধ দিয়ে সৃষ্ট লেকে নৌ ভ্রমণসহ বিভিন্ন পর্যটন সরঞ্জামের ব্যবস্থা, পাহাড় সমূহে ইকোট্যুরিজমের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংযোজন, পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় ও উন্নতমানের রিসোট তৈরী এবং বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন ইত্যাদি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে নিকটেই নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ির প্রকৃতির লীলাভূমির মাঝে প্রায় ৫০ একরের অধিক এলাকায় পর্যটন কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগ থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে উপবন পর্যটন কেন্দ্র, গয়াল প্রজনন খামার, চা বাগানকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য পর্যটক। কিন্তু মানসম্মত পর্যটন অবকাঠামো প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার অভাবে পর্যটকরা অনেক সময় হতাশ হন।

পর্যটন সম্ভাবনাময় এই জনপদে প্রস্তাবিত পর্যটন কমপ্লেক্স বা পর্যটন বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে স্থানীয় জনসাধারণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। যা জাতীয় রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: শফিউল্লাহ এই প্রতিবেদককে বলেন- পর্যটন একটি সম্ভাবনাময় বড় খাত। দেশে পর্যটন শিল্প দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় সম্ভাবনাময়ী নাইক্ষ্যংছড়ি পাহাড়ী এলাকায় সরকার বিনিয়োগ করলে পর্যটন খাতকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব। কারণ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাটি উঁচু-নিচু পাহাড় দ্বারা পরিবেষ্টিত। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তার পাশে সুউচ্চ পাহাড়সমূহ এক দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে।

তিনি আরো জানান- বর্তমানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা রাতে থাকা-খাওয়ার বিশেষ কোনো সু-ব্যবস্থা নেই। এছাড়া পরিকল্পিতভাবে কোনো বিনোদন কেন্দ্রও গড়ে ওঠেনি। এই অবস্থায় এখানে পর্যটন কমপ্লেক্স প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এটি হবে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − 12 =

আরও পড়ুন