বান্দরবান জেলা হাসপাতালের বেহাল দশা
স্টাফ রিপোর্টার:
বান্দরবান জেলা হাসপাতালে কাগজে কলমে ডাক্তার থাকলেও কর্মস্থলে নেই। একশ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের বেহাল দশায় ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা।
বুধবার হাসপাতালে রোগীদের ভীড় থাকলেও দায়িত্বরত চিকিৎসকরা ছিলেননা। ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা হাসপাতালে হৈচৈ ফেলে দেয়। হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে রোগীরা। খবর পেয়ে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ অংসুই এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আবছার ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, বর্তমানে জেলা হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তারের সংখ্যা ১৫ জন। কিন্তু বুধবার সকাল এগারোটা পর্যন্ত কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৫ জন ডাক্তার। আর হাসপাতালে কর্মরত ১০ জন কনসালটেন্টের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১ জন। বাকীদের অধিকাংশই বান্দরবানে নেই। এমনকি জেলা সিভিল সার্জন উদয় শংকর চাকমাকেও কর্মস্থলে দেখা যায়নি। যোগাযোগের জন্য একাধিকবার মোবাইলে কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগী হোসনে আরা, আল মামুন, মো. কাসেম’সহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, সকালে নয়টায় হাসপাতালে এসেছি। ডাক্তার দেখার টোকেন সংগ্রহ করেছি। কিন্তু ঘড়িতে এগারোটা বাজছে, তারপরও ডাক্তারের কোনো খবর নেই। এটি জেলা শহরের একটি সরকারী হাসপাতাল ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালের কর্মচারীরা ৫ টাকায় ডাক্তার দেখানোর টোকেন দিচ্ছেন, রোগীরা টোকেন সংগ্রহ করায় ভীড় বাড়ছে। কিন্তু ডাক্তারের দেখা নেই। প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় জেলা হাসপাতালের এ বেহাল দশা।
জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ অংসুই জানান, একশ শয্যার জেলা হাসপাতালে ডাক্তারসহ আনুসাঙ্গিক লোকবল এখনো ৫০ শয্যার সমমানের। বর্তমানে হাসপাতালে ডাক্তারের পদ সংখ্যা ২১টি। কিন্তু কাগজে কলমে কর্মরত ডাক্তার আছেন ১৫ জন। ডাক্তারের শূণ্য পদ রয়েছে ৬টি। এছাড়া সিনিয়র ষ্টাফ নার্স ২২ জন, ষ্টাফ নার্স ৯ জন, সহকারী নার্স ৫ জন’সহ মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট, ফার্মাসিষ্ট, হেলথ এডুকেটর, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ড্রাইভার এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্নকর্মীসহ ৯২ জনের কর্মস্থলে আছেন ৭৯ জন। দায়িত্ব অবহেলাকারী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আবছার বলেন, কাগজে কলমে ১৫ জন ডাক্তার হাসপাতালে কর্মরত আছেন। কিন্তু হাসপাতালে উপস্থিত আছেন মাত্র ৫ জন ডাক্তার। দুর দুরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা সেবা পাচ্ছেনা তাই ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাবে এটাই স্বাভাবিক। দায়িত্বরত চিকিৎসকদের মধ্যে যারা সময়মত হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেননা, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















