মানিকছড়ির পর্যটনকেন্দ্র ‘ডিসিপার্ক’

fec-image

নীল-সবুজ অরণ্যে আর জলাশয়ে ঘেরা মানিকছড়ি উপজেলার ডিসিপার্ককে পর্যটক বান্ধব করতে কর্টেজ, হার্টিকালচার পার্ক ও পিকনিক স্পট নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও সড়ক উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করে এগুচ্ছে প্রশাসন। এতে জনপদে সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান, বদলে যাবে মানুষের জীবনমান।

সরেজমিন ও প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, উপজেলার ২১৪নং ডলু মৌজার অন্দরে প্রায় ৪শ একর টিলার ভূমির মধ্যে দীর্ঘ ৩ যুগের অধিক সময় বেদখলে থাকা ১৪০.২০ একর সরকারী ভূমি সম্প্রতি উদ্ধার করেছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস। ফলে নীল-সবুজের মাঝে অরণ্যে আর জলাশয়ে ঘেরা অপরূপ সৌন্দর্য্যে নয়নাভিরাম এই ভূমিকে নিরাপদ রাখতে এবং খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পকে পর্যটক বান্ধব করতে মানিকছড়ি ডিসি পার্ক হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। ফলে সেখানে পর্যটকদের অবাধ আনা-গোনা ও মনোরম পরিবেশ সৃষ্টিতে নেওয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা। ইতোমধ্যে সেখানে কর্টেজ, হার্টিকালচার পার্ক ও পিকনিক স্পট নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও সড়ক উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করে কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এতে করে লোকালয়ে সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান, বদলে যাবে জনপদ। জেলার পর্যটন শিল্পে আসবে গতি এমনটাই প্রত্যাশা করছেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘ ৩ যুগের অধিক সময় বেদখলে থাকা এই বিশাল সবুজ অরণ্যেঘেরা পাহাড়ের ডালে-অপডালে ৬.৪৪ একর নিচু ভূমিতে রয়েছে ৩টি লেক, সহস্রাধিক রাবার গাছ, আম, জাম কাঠাঁলসহ নানা প্রজাতির অসংখ্য ফলজ-বনজ বৃক্ষরাজির সমাহার। যেদিকে দৃষ্টি যাবে নয়ন জুড়িয়ে আসবে যে কারো। এছাড়া পাহাড়ে আঁড়ালে আঁড়ালে লেকের পাড়ে দেখা মিলবে বনো ডাহুক, পানি ও আঁকাশে দেখা মিলবে পাতিহাঁসের টহল, মাঝে মাঝে কানে ভেসে আসবে হরিণের ডাক। এছাড়া বানর, হনুমান, গন্ধকগোকুলসহ বিরল প্রজাতির প্রাণির অস্থিত্ব রয়েছে এই অঘোর বনে। এ যেন এক অচেনা পরিবেশে প্রশান্তির ছায়া। এসব প্রাকৃতিক সম্পদের ফলজ বাগান রক্ষণা-বেক্ষণে ৩ বছরের জন্য তা লীজ প্রদান করা হয়েছে। এতে সরকারের আয় হয়েছে ৬ লক্ষ ৪ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট জনপদের ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা গ্র্যাজুয়েট ফোরাম সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম মোহন বলেন, দীর্ঘদিন বেদখলে থাকা সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারের মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসকের যুগোপযোগি সিদ্ধান্তে এই অবহেলিত জনপদে উন্নয়নে আশার আলো দেখছি। এটির উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আন্তরিক হয়ে কাজ করবো।

এ বিষয়ে মানিকছড়ি বনবিভাগ রেঞ্জ কর্মকর্তা উহ্লামং চৌধুরী বলেন, এই বিশাল অরণ্যে এতদিন অবহেলায় পড়ে থাকা প্রাকৃতিক সম্পদকে অপরিবর্তিত রেখে বিশ্বমানের ইকোটোরিজাম জোন হিসেবে এই ডিসি পার্ককে গড়ে তোলা গেলে নিঃসন্দেহে এটি হবে পার্বত্য জেলার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র। এ বিষয়ে বনবিভাগ প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না মাহমুদ এ প্রসঙ্গে‘ বলেন, উপজেলার এই প্রত্যন্ত জনপদে বেদখলে থাকা বিশাল সরকারী সম্পত্তি উদ্ধার ও এটিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদে পরিণত করে পর্যটকবান্ধব করতে জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস এর নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড শুরু করেছে। প্রায় ৫ কিলোমিটার আধাপাকা সড়কে কার্পেটিং, বিদ্যুৎ সংযোগ, কর্টেজ, হার্টিকালচার পার্ক ও পিকনিক স্পট নির্মাণে পরিকল্পনা অনুযায়ী মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিসি পার্কের’ প্রবেশদ্বারে গেইট, লেকের পাড়ে ইতোমধ্যে বিশ্রামাগার করা হয়েছে। আরো দুইটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১ কোটি ১৯ লক্ষাধিক টাকার প্রাক্কলন অনুমোদনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই পর্যটন শিল্পকে ঘিরে পরিকল্পিত মাস্টারপ্লান বাস্তবায়ন হলে খাগড়াছড়ির পর্যটন শিল্পে এটি নতুন চমক হিসেবে ভ্রমণপিপাসু মানুষের নজর কাড়বে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ডিসিপার্ক, পর্যটনকেন্দ্র, মানিকছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 1 =

আরও পড়ুন