মিয়ানমারে মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সহিংসায় উষ্কানী দিচ্ছে চরমপন্থি বৌদ্ধ ভিক্ষুরা

ডেস্ক নিউজ:
আশিন ভিরাথু মিয়ানমারের এক প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষু। অতীত পাপ মোচনের জন্য প্রার্থনা করলেন। এরপর সমবেত হাজারো ভক্তদের উদ্দেশ্য ধর্মোপদেশ দেওয়া শুরু করলেন। ধর্মোপদেশে দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের উৎখাতের দিক-নির্দেশনা দিলেন তিনি।
ভক্তদের তিনি বললেন, “তোমরা দয়া আর ভালবাসায় পূর্ণ থাকতে পার কিন্তু পাগলা কুকুরের পাশে ঘুমাতে পার না।” তার মতে, এই পাগলা কুকুর হচ্ছে তার দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানরা।
এভাবেই মিয়ানমারের চলমান সহিসংতাকে উসকে দিচ্ছেন চরমপন্থি বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। নিউইয়র্ক টাইসের বৈশ্বিক সংস্করণ ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সহিংসতায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের অনলাইন সংস্করণে ‘মিয়ানমারের বৌদ্ধদের মধ্যে চরমপন্থা বাড়ছে’ ও হেরাল্ড ট্রিবিউন ‘মিয়ানমারে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর উত্তেজিত হওয়ার ডাক’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
দুই ঘণ্টাব্যাপী ধর্মোপদেশের পর এক সাংবাদিককে তিনি বলেন, “আমি তাদের সমস্যা সৃষ্টিকারী বলি কেননা তারা সমস্যা সৃষ্টিকারী। আমাকে উগ্রপন্থি বলায় আমি গর্বিত বোধ করি।”
বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধদের সহিষ্ণুতার নিয়ে যে ইতিবাচক ধারণা মানুষের আছে তার কোনো লক্ষণ নেই আশিন ভিরাথুর মতো চরমপন্থি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের। ধ্যাণে মগ্ন থাকার চেয়ে অস্ত্রবহন আর বিষোদগারপূর্ণ বক্তব্য দেওয়াতেই ব্যস্ত তারা।
হেরাল্ড ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ২০০ জনের বেশি মুসলমানকে মেরে ফেলেছে এবং দেড় লাখের বেশি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে যাদের অধিকাংশই মুসলমান।
দেশব্যাপী উগ্রবাদী আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে ধর্মোপদেশ সংবলিত বক্তব্য ডিভিডি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্য বিলি করা হচ্ছে। মুসলমানদের তৈরি জিনিস ও পণ্য বয়কটের আহ্বান জানানো হচ্ছে নিয়মিত ধর্মপোদেশে।
সহিংসতাকে জোরদার করতে কমিউনিটি সেন্টার খোলা হচ্ছে এবং দেশব্যাপী ৬০ হাজারের বেশি বৌদ্ধ শিশুকে নিয়ে রোববারের স্কুল কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। ‘সানডে ধাম্মা স্কুল’ নামের কর্মসূচিতে শিশুদের মনে গেঁথে দেওয়া হচ্ছে, মুসলমান বিদ্বেষী ধারণা।
সামরিক রাষ্ট্র থেকে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় প্রবেশ করলেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কারণে বিশ্বব্যাপী মিয়ানমারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং এশীয় অঞ্চলে প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মিয়ানমারবিরোধী মনোভাব তৈরি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে। বেসামরিক সরকার প্রচলিত মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছেন আশিন ভিরাথু।
এর আগে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার কারণে আট বছর জেলে থাকতে হয়েছে আশিনকে। নতুন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দীদের সঙ্গে সম্প্রতি তিনি মুক্তি পান।
সম্প্রতি এক ধর্মোপদেশে গত মার্চে মেইকতিলা শহরে স্কুলশিশু ও অন্যান্য মুসলমান বসতিতে গণহত্যাকে ‘শক্তির প্রদর্শন’ হিসেবে উল্লেখ করেন আশিন। একটি মানবাধিকার গোষ্ঠী ওইসব গণহত্যার অভিযোগ করেছে।
আশিন বলেন, “যদি আমরা দুর্বল হই, আমাদের ভূমি মুসলমানদের হবে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের ১০ জনের নয়জন বৌদ্ধ। দেশটির প্রায় সাড়ে ৫ কোটি জনসংখ্যার মাত্র ৪ থেকে ৮ শতাংশ মুসলমান। বাদবাকি হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
নিজেকে জাতীয়তাবাদী হিসেবে দাবিকারী আশিন বলেন, “মিয়ানমারের বৌদ্ধরা মুসলমানদের অধীন হয়ে যাচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, মুসলমানরা বৌদ্ধদের থেকে বেশি সন্তান নিচ্ছে এবং বৌদ্ধদের সম্পত্তি কিনে নিচ্ছে।
মুসলিমবিরোধী আন্দোলনের একটি ‘থিম সং’ তৈরি করেছেন আশিন। গানের সারাংশ হচ্ছে, যারা আমাদের দেশে বাস করে, আমাদের পানি পান করে এবং তারা আমাদের প্রতি অকৃতজ্ঞ।
গানটিতে সরাসরি মুসলমানদের উল্লেখ করা না হলেও আশিন ভিরাথু জানান, মুসলমানদেরই উদ্দেশ্য করেই গানটি তৈরি করা হয়েছে।
আশিনের তথাকথিত জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নাম দেওয়া হয়েছে ৯৬৯। এ সংখ্যা বুদ্ধের গুণাবলীকে প্রতীকায়িত করে বলে বিশ্বাস বৌদ্ধ ভিক্ষুদের। আন্দোলনের লোগো এখন-কি গাড়ি, কি মোটর সাইকেল, কি দোকান-মিয়ানমারের সর্বত্রই।
মিয়ানমারের চরমপন্থি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কর্মকাণ্ডে অন্যান্য দেশের বৌদ্ধরা ভালো চোখে দেখছেন না। গত মার্চে মিয়ানমারের সহিংসতাকে ‘অচিন্তনীয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দালাই লামা। মিয়ানমারের বৌদ্ধদের বুদ্ধের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ পণ্ডিত ও ভিক্ষু ফরা পাইসাল ভিসালো বলেন, “মিয়ানমারের চরমপন্থি ভিক্ষুদের উদ্ভাবিত ‘আমরা ও তারা’ ধারণা বৌদ্ধধর্মে গর্হিত কাজ।”
বিশ্বের অন্যান্য দেশের বৌদ্ধ ভিক্ষু থেকে মিয়ানমারের বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিচ্ছিন্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সৌজন্যে: বাংলা নিউজ



















বৌদ্দরা মুসলিমদের নির্যাতন করছে মুসলিমরা যখনই বৌদ্দপ্রধান দেশে বসবাস করা শুরু করেছে তখন থেকেই । আমি আপনাদের এই স্যাটাসে মিয়ানমারের মুসলিম হত্যাকারীদের সর্দারের ছবি শেয়ার করলাম । Buddhist warfare টা বইয়ে বিস্তারিত তথ্য আছে কিভাবে সারা বিশ্বে বৌদ্দরা মুসলিমদের নির্যাতন করছে । ডাইলোড করে সবাই পড়তে পারেন । লিংক : http://www.mediafire.com/download/y3cpuamx0cb2v8b/Buddhist_warfare_by_Michael_Jerryson_and_Mark_Juergensmeyer.pdf আর এই দুই বইয়েও মুসলিমদের বৌদ্দরা কীভাবে নির্যাতন করছে তার তথ্য রয়েছে :১. Violent Buddhism http://www.feedbooks.com/item/318834/violent-buddhism , ২.Buddhist Fury: Religion and Violence in Southern Thailand
http://www.asiapacific.anu.edu.au/newmandala/2012/11/13/review-of-buddhist-fury-tlc-nmrev-xlvi/ , আশা করি সবাই বইগুলো পড়বেন । অন্ততপক্ষে প্রথম বইটা পড়বেন । যদি পড়েন তাহলে বোঝতে পারবেন মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ ৫ টা প্রদেশকে কীভাবে চীন মুসলিম সংখ্যালঘু করেছে । কীভাবে মুসলিমদের চিনারা পুড়িয়ে মেরেছে । বৌদ্দরা কীভাবে থাইল্যান্ডে মুসলিম নির্যাতন করছে । বৌদ্দরা কীভাবে বার্মায় মুসলিম নির্যাতন করছে ।এভাবে সব বৌদ্দ দেশ কিভাবে মুসলিমদের নির্যাতন করছে তার তথ্য এই বইয়ে রয়েছে । Buddhist warfare বইটা অক্সফোর্ড ইউনির্ভাসিটি প্রেস হতে বের করেছে । সুতরাং যেন তেন বই নয় । বইগুলো পড়লে বোঝা যায় কীভাবে বৌদ্দরা মুসলিমদের নির্যাতন করছে । এসব বই কোন মুসলিম লিখেনি । অমুসলিম দেশগুলোর বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি থিসিস এগুলো । বৌদ্ধ ধর্মের লোকরা বিভিন্ন দেশে যেমন : বার্মা, চীন, শ্রীলংকা, কোরিয়া, তাইওয়ান ইত্যাদি মুসলিমদের নির্যাতন করছে তা জানতে দযা করে বইগুলো পড়ুন । যাঁরা বুদ্ধ ধর্মকে পরম শান্তির ধর্ম মনে করে এর বিশ্বময় প্রসার কামনা করেন, তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য এসব বই। যেসব মূর্খ প্রচার করে বৌদ্ধ ধর্ম শান্তির ধর্ম, তাদের এসব বই পড়া উচিত। আরো যাই হোক,বার্মার অং সান সুচি র শান্তিতে নোবেলটা যে অবৈধ হয়েছে -এটা জোর গলায় বলতে চাই আমরা ! আমাদের প্রতিবাদী হতে হবে ।
একজনকে দিয়ে যদি সবাইকে মাপা হয় তবে ভাই ফকরুল আপনি কি? আপনাদের মুসলিমরাওতো অনেক কিছু করতেছে। আপনি কি তাদের কু কর্মের ভাগী হবেন? ভাই ধর্ম কখনো মানবের অকল্যাণ করে না। মানবের কল্যাণের জন্য ধর্মের আবির্ভাব হয়েছে সে যেই ধর্ম হোক।