মেঘের মিতালী দেখতে বান্দরবানে ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড়

fec-image

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই বান্দরবান। প্রকৃতি যেন এই বান্দরবানকে অপরূপ সাজে সাজিয়েছে। প্রকৃতির এই রূপ দেখে বুঝা যায় সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি কতটুক সুন্দর। দীর্ঘ অনেকটা মাস গৃহবন্ধি জীবন যাপনের পর বর্তমানে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বান্দরবানে ছুটে আসছে হাজার হাজার পর্যটক। প্রথম একটি চাওয়া মেঘের মিতালী নিজ চোখে উপলব্ধি করা ।

শীতের কুয়াশামাখা ভোরে হালকা রোদের ঝলকানি বিমুগ্ধ পরিবেশ তৈরি করে বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলে। মনে হয় যেন মেঘের দেশের বাসিন্দা বান্দরবানের জনসাধারণ। হাত দিয়ে স্পর্শ করা যাবে এই মেঘ কুঞ্জকে।

বান্দরবানে বেড়াতে এসে মানিকছড়ি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান ও সুমন দাস জানান, সব সময় আমরা মেঘের বিভিন্ন চিত্র দেখি কিন্তু বান্দরবানে এসে কিছু ভিন্নতা উপলব্ধি করেছি। সত্যিকার অর্থে যারা বান্দরবান আসবেনা তারা কখনোই বান্দরবানের সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে পারবে না। টানা লকডাউনে আটকে থাকার কারণে ছেলে মেয়েদের মন অনেকটা বিষন্নতায় ভরে গিয়েছিল এমনকি আমরা বড়দেরও। কিন্তু বান্দরবানের টানা তিনদিনের সফরে যেন এক নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। নীলাচল ও নীলগিরিতে মেঘের মিতালী দেখে মন আনন্দে ভরে গেছে।

ঢাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বান্দরবানে ভ্রমণে আসা এক ছাত্র সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা প্রতি বছর সময় পেলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বান্দরবানে বেড়াতে চলে আসি। এবারও বন্ধুরা সবাই মিলে বান্দরবান ভ্রমণ করলাম এবং এইবার বান্দরবানের নতুন করে উৎপত্তি হওয়া রোয়াংছড়ি উপজেলায় দেবতাখুম পরিদর্শন করলাম নৌকার ভেলায় করে। আসলে বান্দরবানে এক একটা জায়গার বৈচিত্রতা ভিন্নরকম। অন্যান্য জেলার চেয়ে আমি মনে করি বান্দরবান জেলা সবচেয়ে সর্বশেষ্ঠ যেখানে একজন ভ্রমণপিয়াসু মানুষ এসে একমাস যদি নির্দিষ্টভাবে ভ্রমণ না করে তাহলে সে কোনদিনও ভ্রমণের তৃপ্তি পাবে না। তাই আমরা প্রতি বছর যখন সময় পাই পারিবারিক ও বন্ধুদের নিয়ে বান্দরবান বেড়াতে চলে আসি।

চট্টগ্রাম থেকে পূরবী অথবা পূর্বাণী যোগে খুব সহজে বান্দরবানে চলে আসা যায় অল্প খরচে। চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট থেকে বাসযোগে সরাসরি বান্দরবান বাস কাউন্টারে এসে শেষ হবে পথ। পরবর্তীতে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন হোটেলে রুম বুকিং করে এর পরে বেরিয়ে যাওয়া যাবে বান্দরবানের প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্য উপলব্ধি করার জন্য বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে। যেখানে যাওয়ার পর মনে এক অনাবিল আনন্দের সৃষ্টি হয়। যেন অন্যরকম এক খুশির জোয়ার। যেখানে শুধু আনন্দের বহিঃপ্রকাশ, নেই কোন দুঃখ, নেই কোন কষ্ট, ইচ্ছে করে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে। কিন্তু লকডাউন খুলে দেবার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় হয়েছে বান্দরবানে। পর্যটককে সাদরে বরণ করে নিতে প্রস্তুত বান্দরবান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − two =

আরও পড়ুন