রাখাইনের ১৪টি শহরের প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আরাকান আর্মি


মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টিরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) হাতে।রাখাইনে আরাকান আর্মির এই বিস্তারের ফলে সেখানে এখন ভিন্ন এক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাখাইনের মংডু, বুথিডং, রাথেডং, ম্রাক-ইউ, কিয়াকতাও এবং পালেতওয়াসহ ১৪টি শহরের প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ এখন আরাকান আর্মির। বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা রাখাইনে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে এবং তারা মূলত রাখাইনের রাজধানী সিত্তওয়ে, কিয়াউকফিউ এবং মানাউং—এই কয়েকটি শহর ও এর আশেপাশের নৌঘাঁটিগুলো ধরে রাখতে লড়াই করছে।
নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলোতে আরাকান আর্মি ইতিমধ্যে নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে।আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের কারণে জান্তা বাহিনী নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে। এই সংঘাতের আঁচ মাঝে মাঝে বাংলাদেশ সীমান্তেও এসে পড়ে, ফলে টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
সিত্তওয়ে ও কিয়াউকফিউয়ের মতো অবশিষ্ট ঘাঁটিগুলো দখলের জন্য দুপক্ষের মধ্যে এখনও লড়াই চলছে।
২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি তারা পাউকতাও এর নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই শহরটিসহ নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন শহরের নাম পরিবর্তন করতে শুরু করেছে আরাকান আর্মি। পাউকতাও এর নাম পরিবর্তন করে বিরটঠানি (বীরদের আবাস) রাখা হবে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে।
আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত মিনব্যা শহরের নাম হবে অঞ্জনপুরা। রাখাইন রাজ্যের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত লেইম্রো নদী প্রচীন কালে অঞ্জনা নামে পরিচিত ছিল। এই নদীটি মিয়ানমারের চিন রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে ২৩০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
আরাকান আর্মির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো সংবাদপত্র ইরাওয়াডিকে জানিয়েছে, মংডু ও সিট্টওয়ে জেলার শহরগুলোরও নতুন নামকরণ হতে পারে, তবে বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
একটি সূত্র বলেছে, “আমরা শুনেছি তারা অনেক শহরের নাম পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করছে। এখনকার মতো পাউকতাও ও মিনব্যার নাম পরিবর্তিত হচ্ছে। পরে অন্যগুলোর নাম পরিবর্তন করা হতে পারে।”
৪র্থ শতক থেকে ১৮০০ শতক পর্যন্ত চারটি প্রভাবশালী রাজবংশের মাধ্যমে আরাকান (রাখাইন) রাজ্য সমৃদ্ধ হয়েছিল। এদের রাজ্যগুলো ছিল ধান্যওয়াদি, ভেসালি, ল্যাংমরো এবং ম্রাউক-উ। এসব রাজবংশের আমলে আরাকানে ১৭টি রাজকীয় রাজধানী ও অসংখ্য শহর ছিল। ২৪০ বছর আগে বার্মিজদের হাতে আরাকান রাজ্যের পতন হয়।
মিনব্যার সত্তরোর্ধ এক বাসিন্দা বলেন, “এসব নাম ইতিহাস থেকে তুলে আনা হয়েছে। ল্যাংমরো এবং ম্রাউক-উ আমলে মিনব্যা একটি শক্তিশালী ও দুর্গসম নগরী ছিল।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এএর রাজনৈতিক শাখা ইউনাইটেড লিগ অব আরাকান (ইউএলএ) সবুজ আরখা প্রকল্প ও স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে নিয়ে পাউকতাও ও মিনব্যার সড়কগুলোতে বৃক্ষ রোপণ শুরু করেছে।
সূত্র : ইন্টারনেট ও বিভিন্ন সংবাদপত্র
















