রামগড়ে অগ্নিকাণ্ডে ৭ পরিবার নিঃস্ব, প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

fec-image

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার উপকন্ঠে মাস্টারপাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে অন্ততঃ ৭টি পরিবারের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের পরিধানের কাপড চোপড় ছাড়া কোন কিছুই রক্ষা করতে পারেনি।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮ টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের দাবি অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রামগড় শহরের উপকন্ঠে টিএন্ডটি অফিস সংলগ্ন আবু তালেবের মালিকানাধীন ৭টি ভাড়াটিয়ার ঘর আগুনে পুড়ে যায়। রাত সোয়া ৮টার দিকে বাজারের হাজী বস্ত্রবিতানের মালিক মহসিনের ঘর হতে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত তা পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

মহসিনের প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান মিলন বলেন, তিনি তার ঘরে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ পাশের ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বেরিযে যান। তার চোখের সামনেই আগুনের লেলিহান শিখায় মহসিনের ঘর পুড়ে যাওয়ার সাথে সাথে তার নিজের ঘরটিও ছাই হয়ে যায়। তারা পরিধানের কাপড় ছাড়া ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারেননি। এভাবে একে একে অন্ততঃ ৭ টি পরিবারের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, মহসিন গত বুধবার সপরিবারে কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছেন। বাসা তালাবদ্ধ ছিল। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ঐ ঘরে প্রথমে আগুন লাগে। পাশের ঘরগুলো বাঁশের বেড়া ও টিনের ছাউনির। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িযে যায়।

আগুন লাগার একটু পরই দমকলবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় প্রায সোয়া এক ঘন্টা চেষ্টার পর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

রামগড় ফায়ার সার্ভিসের লিডার হায়াতুন্নবী জানান, রাস্তার উপর একটি হোটেলের লাকড়ির বিরাট স্তুপের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে বেগ পেতে হয়। তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।

বাড়ির মালিক আবু তালেব বলেন, আগুনে তার ৮-৯ ভাড়াটিয়া পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিবারগুলোর অধিকাংশই দরিদ্র। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে সাধারণ মানুষ আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা না করলে তাঁর নিজের পাকাঘরটিও বাঁচানো যেতো না।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কার্বারী, ভারপ্রাপ্ত ইউএনও, থানার অফিসার ইনচার্জ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভপতি মোস্তফা হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল আলম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল আলম কামালসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিদর্শনে আসেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: অগ্নিকাণ্ড, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, রামগড়
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × five =

আরও পড়ুন