গণপূর্ত বিভাগে ঘুরে ফিরে কাজ পাচ্ছে গুটিকয়েক ব্যক্তি

রুমা ও থানচিতে ফায়ার সার্ভিসের কাজে ধীরগতি

fec-image

নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে তিন বছর আগে। এখনো কাজ শেষ হয়নি। কাজের মানও ত্রুটিপূর্ণ। গণপূর্ত বিভাগ বলছে দ্রুত কাজ শেষ করে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তবে কখন নাগাদ এই সময় শেষ হবে তা নিদিষ্ট করে বলতে পারেনি। বান্দরবানের থানচি ও রুমা উপজেলায় নির্মিতব্য ফায়ার সার্ভিস দুটির এই অবস্থা।

২০১৭ সালে কাজ শুরু হয়ে এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য কার্যাদেশে বলা হলেও প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের খামখেয়ালীপনার কারনে দুর্গম এলাকার এই দুটি ফায়ার সার্ভিসের কাজ চলেছে কচ্ছপগতিতে এমনটি দাবী স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে থানচি উপজেলায় জনসংখ্যা প্রায় ২৮হাজার-এবং রুমা উপজেলায় ৩১হাজার। প্রায় সময় এখানে অগ্নিদূর্ঘটনা ঘটে।

দূর্গম এলাকা হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও থাকে বেশি। এরই প্রেক্ষিতে পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি দুই উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

থানচি ও রুমা উপজেলায় প্রত্যেক ফায়ার সার্ভিস নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ২কোটি ৫৯লাখ টাকা। কিন্তু গনপূর্ত বিভাগ দরপত্র আহ্বান করে ২কোটি ৮৩লাখ টাকায়। পরে তারা ২৪লাখ টাকা ব্যয়সহ প্রাক্কলিত ব্যয় সংশোধনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। এখনো সম্পূর্ণ কাজ শেষ না হলেও অধিকাংশ বিল ঠিকাদারকে প্রদান করেছে গণপূর্ত বিভাগ।

তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ফারুখ আহমদ বলেন- আর্থিক বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ করা যাচ্ছে না। তিনি ধারদেনা করে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন বলে দাবী করেন। কখন নাগাদ কাজ শেষ হবে সেই প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারেননি ঠিকাদার।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সহকারী পরিচালক মো. কামাল উদ্দীন ভূইয়া বলেন- দেশে চলমান ১৫৬টি ফায়ার স্টেশনের ন্যায় রুমা ও থানচি উপজেলার দুটি নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে তিন বছর হলো।

খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি গত সপ্তায় সচিব কমিটির বৈঠক হয়েছে এখন একনেকে যাবে। সংশোধনের পর কাজ শুরু হবে। দু‘টি ফায়ার স্টেশনের কাজ ১০ পার্সেন্ট বাকি রয়েছে দাবী এই কর্মকর্তার।

তবে সিডিউল অনুযায়ী নির্মিতব্য দুটি ফায়ার সার্ভিসে আনুসাঙ্গিক ফিটিংস এর অনেক কাজ করা হয়নি। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে স্থানীয়দের।

এদিকে বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী স্বপন কুমার দাশ বলেন- ২০১১ সালে প্রণীত প্রকল্পে ২০১৭ সালে অবকাঠামো নির্মাণের দরপত্রে স্বাভাবিকভাবে ব্যয় বাড়াতে হয়েছে। সারাদেশের নির্মাণাধীন ফায়ার সার্ভিসগুলো থেকে বর্ধিত ব্যয়ের সংশোধিত প্রস্তাব পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হবে। এজন্য কখন অনুমোদন পাওয়া যাবে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বান্দরবানের কয়েকজন ঠিকাদার জানান- বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগে ঘুরে ফিরে কাজ পাচ্ছে ঠিকাদার ফারুখ আহমদসহ গুটিকয়েক ব্যক্তি। ই-টেন্ডারের আইনি মারপ্যাঁচে ঘুরেফিরে তারা কাজ ভাগিয়ে নিচ্ছেন।

ফলে সরকারি উন্নয়ন কাজে যেমন স্বচ্ছতার অভাব থাকছে তেমনি একই প্রকল্প বারবার সংশোধন হচ্ছে। অফিস ম্যানেজের সুযোগে প্রতিষ্ঠান বাড়াচ্ছে প্রকল্প ব্যয়। সচেতন নাগরিকদের মতে, একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বেশি কাজ পাওয়ায় সময়মতো কাজ শেষ হয়না।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ই-টেন্ডার, গণপূর্ত বিভাগ, প্রকৌশলী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × three =

আরও পড়ুন