রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনেক সময় লাগবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা


পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে অনেক সময় লাগবে। আমাদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে এগোতে হবে, যাতে করে আমরা সমস্যার সমাধান করতে পারি। সেটার চেষ্টা চলছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
মিয়ানমার সীমান্তে টেকনাফের ছোট্ট শিশু হুজাইফার গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হবার বিষয়ে মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে তলব প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণারয়ের কাজ হচ্ছে- মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এ ব্যাপারে আপত্তি করা। বাকিটা গ্রাউন্ডে যারা আছেন তারা কি করছেন…এই ব্যাপারে একদিনের মধ্যে আমার কাছে তথ্য নেই। নিরাপত্তা উপদেষ্টা এ ব্যাপারে বলতে পারবেন।
ড্রোন কারখানার জন্য চীনের সঙ্গে চুক্তির পরিকল্পনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে জি-টু-জি (গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট) ভিত্তিতে চুক্তির পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে প্রভাবের প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমরা অবশ্যই এমন কিছু করব না, যাতে করে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আমরা এটা ব্যালেন্স বজায় রেখেই করব।
তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের সামরিক বাহিনীসমূহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এয়ারফোর্সের কথা ধরুন-আমাদের এয়ারক্রাফটগুলো অনেক পুরোনো, অনেকগুলো সার্ভিসেভল অবস্থায়ও নাই। কাজেই আমাদের মিনিমাম কিছু ক্রয় করতে হবে। কোথা থেকে করা হবে, কোন দেশ থেকে কতটা আনা হবে এগুলো নিয়ে আসলে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই এমন কিছু করব না-যাতে করে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আমরা এটা ব্যালেন্স বজায় রেখেই করব।
সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে ৬০৮ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে গত ৬ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদন করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ ধরনের প্রকল্প মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের পর প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দেন।
জোট গঠন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেড় বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কোনো জোটে ঢুকে নাই। বিভিন্ন গ্রুপিং নিয়ে কিন্তু আলাপ-আলোচনা চলতে থাকবে। আমরা যদি দেখি গ্রুপ সৃষ্টিতে আমাদের স্বার্থ আছে এবং তাতে যুক্ত হলে আমাদের স্বার্থ রক্ষিত হবে তাহলে অবশ্যই যাব, না হলে তো যাবার প্রশ্নই উঠে না।
ভারতে বাংলাদেশের তিনটি মিশনে ভিসা চালুর বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা একটা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এটা বন্ধ রেখেছি। আমাদের তো সিকিউরিটি দেখতে হবে মিশনের।

















