লংগদুতে চিকিৎসা পেল বুনো বড় হাতিটি


রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার ৩৭ বিজিবি জোন সংলগ্ন রাজনগর এলাকায় অসুস্থ একটি বুনো হাতির চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ।
৩৭ বিজিবি রাজনগর জোনের অধিনায়ক ও জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. শাহনেওয়াজ তাসকিনের সহযোগিতায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান শাহের নেতৃত্বে বন বিভাগ ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি টিম লংগদু উপজেলার রাজনগরে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা হাতিটির সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেন।
এ সময় এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা (ইআরটি) ঘটনাস্থলে থাকা অসুস্থ হাতিটিকে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে জঙ্গল থেকে বাইরে বের করে আনেন। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা হাতির অবস্থা পর্যালোচনা করে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যবস্থা করেন।
এলাকায় মোট ১১ থেকে ১৩টি হাতির পাল থাকলেও সেখানে অসুস্থ বড় হাতিসহ একটি হাতির শাবক দেখা যায়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, গত সপ্তাহ খানেক আগে লংগদু উপজেলার ৩৭ বিজিবির আওতাধীন এলাকায় একটি বড় হাতি পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে অসুস্থ হাতিটিকে চিকিৎসাসেবা দিতে আসি। বন বিভাগ ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি টিম সোমবার ঘটনাস্থলে এসে হাতিটিকে দেখে চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছে। হাতির জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে হাতিকে ওষুধ খাওয়ানোর জন্য ফরেস্ট বিভাগের টিমসহ ইআরটি টিমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে বিজিবির সদস্যরা। আশা করছি, ঠিকমতো ওষুধ খাওয়ানো গেলে হাতিটি দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবে।
এ সময় রাঙামাটি সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ আবু সালেহ, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউরেটর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা. মো. ফরহাদ হোসেন, কাচালংমুখ বনশুল্ক ও পরীক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম নিয়াজী, রাঙ্গিপাড়া বিট কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম, ইআরটি সদস্য এবং ৩৭ বিজিবি জোনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম থেকে আগত চিকিৎসক দলের প্রধান, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউরেটর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা. মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, আহত হাতিটির পায়ে আঘাত লেগেছে। তার পায়ের আঘাতের বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে আমরা বুঝতে পেরেছি। আঘাতের বিষয়টি পর্যালোচনা করে কিছু ওষুধ দেওয়া হয়েছে। তা সঠিকভাবে খাওয়ানো গেলে হাতিটি সুস্থ হয়ে উঠবে।
পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ সকলে ৩৭ বিজিবি রাজনগর জোনের অধিনায়ক ও জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. শাহনেওয়াজ তাসকিনের সঙ্গে দেখা করেন এবং হাতির সার্বিক বিষয়ে অবগত করেন।
বিজিবি রাজনগর জোনের অধিনায়ক ও জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. শাহনেওয়াজ তাসকিন বলেন, বিজিবি সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছে। তিনি বলেন, বিজিবির আওতাধীন বিভিন্ন বনে হাতিসহ বিভিন্ন প্রাণী অনেকটাই নিরাপদে থাকে। তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় সকলকে সচেতন করতে বন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান।

















