সাঙ্গু নদীর বাঁকে বাঁকে শিহরণ

fec-image

শুধু পাহাড়-ই নয়, নদী, ঝর্ণা ও প্রকৃতির মিলনে অপরূপ সুন্দর বান্দরবান জেলা। প্রকৃতি উপভোগের পাশাপাশি পর্যটকরা নেমে পড়ছেন পাহাড় ঘেরা নদীতে। নদীর বাঁকে বাঁকে শিহরিত হচ্ছেন পর্যটকরা। গত কয়েক বছরে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এই মত। যার কারণে সবুজ পাহাড়ের পাশাপাশি,
সাঙ্গু নদী নির্ভর ব্যবসা বাড়ছে বান্দরবানে।

সামনে আসছে শীত। রয়েছে পূজা-পার্বনের ছুটি। একারণে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বান্দরবানে পর্যটক বিচরণ। চলতি মাস (নভেম্বর) থেকে এর সংখ্যা বাড়বে বহুগুন। নাগরিক যান্ত্রিকতা ছেড়ে কয়েকটা দিনের জন্য ভ্রমণের ইচ্ছে যদি থাকে, তাহলে ঘুরে আসুন পর্যটন শহর বান্দরবানে। পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য উপভোগের পাশাপাশি সাঙ্গু নদী ভ্রমণ যেন বাদ না পড়ে!

তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবান একটি। তবে বান্দরবানকে অন্যান্য দুই জেলা থেকে আলেদা করেছে কিছু অপরূপ সৌন্দর্যের অপরূপ স্থান। যেমন, সাঙ্গু নদী, রেমাক্রি ও নাফাকুম। অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো হলো নীলাচল, নিলগীরি, ক্রেউক্রাডং পাহাড়, শৈলপ্রপাত, স্বর্ণমন্দির, মেঘলা, চিম্বুক, বগালেক পর্যটন স্পটগুলো বান্দরবানকে সমাদৃত করেছে দেশ ছাড়িয়ে বিশ্ববাসীকে।

বান্দরবানের থানচির কয়েকটি স্পট ঘুরে দেখা যায়, থানচি-রেমাক্রি নদী পথের কোথাও ছোট আর মাঝারি, কোথাও বড় বড় নানা আকারের পাথর। এসব পাথরই যে অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি দেয় তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। আর এমন রূপমাত্রা মেলে ধরেছে বান্দরবানের সাঙ্গু নদী নির্ভর পর্যটনকে। দুপাশে সারি সারি পাহাড়, মাঝখানে নদী আর পাথরের গলাগলি ভিশন মুদ্ধ করছে পর্যটকদের।

জানা গেছে, বাংলাদেশে যে কয়টি নদীর উৎপত্তি তার মধ্যে সাঙ্গু অন্যতম। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী মদক এলাকায় এই নদীর জন্ম। উৎস মুখ থেকে বঙ্গপসাগর পর্যন্ত এই নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭০কি:মি। পর্যটকদের মতে সাঙ্গু নদী ছাড়া বান্দরবানের সৌন্দর্য যেন অপূর্ণ।

এই নদী পাহাড়ের নিচে একে-বেঁকে চলেছে। কোথাও খরস্রোতা আবার কোথাও শান্তি। নদীর দুই তীরের পাহাড়-বন, পাথর আর ঝর্ণার সৌন্দর্যে পর্যটকরা মুগ্ধ হন। শীতকালে এই নদীতে তেমন পানি না থাকলেও স্রোত থাকে প্রচুর। নদীতে স্রোতের বিপরীতে আর বড় বড় পাথরের পাশ কেটে নৌকা চালানো খুব একটা সহজ নয়।

কিন্তু মাঝি খুব দক্ষ হাতেই নৌকায় পর্যটকদের গন্তব্যে পৌঁছান। নদী পথে কথা হয় রাজশালী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র ইমতিয়াজ আহমেদ এর সাথে। করোনাকালের দীর্ঘ বন্দি জীবন কাটিয়ে ঘুরতে এসেছেন বান্দরবান। এই পর্যটকের মতে, কেউ পাহাড় পছন্দ করে, কেউ নদীর দৃশ্য পছন্দ করে। তারমধ্যে রেমাক্রি
ভ্রমণ অন্যতম। রেমাক্রি, তিন্দুর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট তিনি।

এদিকে পর্যটকরা যাতায়াত করেন এমন সব এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ পুলিশ। বিজিবির এক কর্মকর্তা জানান, সাঙ্গু নদীর দুই পাড়ে বিজিবির বিওপি ও সিও ক্যাম্প অর্ন্তভুক্ত করা রয়েছে। রেমাক্রি ও বড় পাথর এলাকায় বিওপির সদস্যরা পর্যটকদের সার্বক্ষনি পর্যবেক্ষণ ও তাদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করছেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পর্যটক, পূজা-পার্বন, মিয়ানমার
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − 1 =

আরও পড়ুন