মহেশখালীতে সার্ভার জটিলতায় উপবৃত্তির কার্যক্রম থমকে গেছে! দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা

fec-image

মহেশখালী উপজেলায় জন্মসনদের সার্ভার জটিলতায় আটকে আছে উপবৃত্তি কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রেও জন্মসনদ বাধ্যতামূলক থাকায় সেখানেও অভিভাবকদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে।

মহেশখালী শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ২০২০ সালের উপবৃত্তির কার্যক্রম রুপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশ থেকে ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন ‘নগদ’-এর মাধ্যমে প্রদান করা হবে। শিওর ক্যাশ পোর্টালে জন্মসনদ বাধ্যতামূলক ছিল না। কিন্তু নগদ পোর্টালে জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে তাও আবার অনলাইন নিবন্ধন। সার্ভার জটিলতায় জন্মসনদ প্রদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে উপবৃত্তির তথ্য সঠিক সময়ে জমা দেওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদে জন্মসনদ নিতে আসা অভিবাবক মোঃ ইব্রাহিম বলেন, আমি বেশ কয়েকদিন ধরে জন্মসনদ নেওয়ার জন্য পরিষদে যাচ্ছি। কিন্তু সার্ভার কাজ না করায় প্রতিদিন ঘুরতে হচ্ছে। আমার ছেলেকে টিকা কার্ড দিয়ে বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছি। কিন্তু জন্মসনদ বাধ্যতামূলক লাগবেই। তাই প্রতিদিন পরিষদে এসে খোঁজ নিচ্ছি।

ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদে জন্মসনদ নিতে আসা আরেক অভিভাবক রাহেলা বলেন, বিদ্যালয় থেকে বলে দিয়েছে জন্মসনদ ছাড়া উপবৃত্তির টাকা পাওয়া যাবে না। আজ নিয়ে তিন দিন আসলাম, কিন্তু এখনো সনদ পাইনি। যদি ১০ জানুয়ারির ভিতর জন্মসনদ না দিতে পারি তাহলে তো উপবৃত্তির টাকা পাব না। এ সমস্যা আমার একার নয়। অনেক অভিভাবক প্রতিদিন জন্মসনদের জন্য এসে ঘুরে যাচ্ছেন। আমরা দাবি জানাচ্ছি যেন দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য অভিভাবক তাদের সন্তানদের জন্ম নিবন্ধন করতে এসে ফেরত যাচ্ছেন। গত ৩ বছর ধরে রোহিঙ্গা আসার বিষয়টি নিয়ে সার্ভারে কাজ করছে না। মাঝে মধ্যে একটু সার্ভারে কাজ করা গেলেও আবারো তা অকার্যকর হয়ে পড়ে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একই সমস্যা।

উপজেলার কুতুবজোমের ঘটিভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল আলম বলেন, অনেক অভিভাবক এখনো আমাদের জন্মসনদ দিতে পারেনি। জানুয়ারির ১০ তারিখের মধ্যে আমাদের উপবৃত্তির তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। শিশু শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আমরা টিকা কার্ড দিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের ভর্তি করছি। অভিভাবকদের বলে দেওয়া হয়েছে অবশ্যই জন্মসনদ লাগবে। সার্ভারের সমস্যার কারণে যেহেতু এই সমস্যা হচ্ছে, তাই উপবৃত্তির তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সময় যেন বৃদ্ধি করা হয় সেই দাবি জানাচ্ছি।

মহেশখালী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সার্ভার সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত ২০১৭ সাল থেকে সার্ভার বন্ধ রয়েছে কক্সবাজারের প্রতিটি উপজেলায়। চলতি জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে উপবৃত্তির সকল তথ্য শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার কথা। তবে এখন পর্যন্ত জন্মসনদের সার্ভারের সমস্যার কারণে উপজেলার প্রায় বিদ্যালয় থেকে উপবৃত্তির তথ্য শিক্ষা অফিসে জমা দেয়নি। বিষয়টি আমরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে অবগত করেছি।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাফুজুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, বিশেষ করে কক্সবাজার জেলায় গত ৩ বছর ধরে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বন্ধ রয়েছে, সম্প্রতি সময়ে জেলার কয়েকটি ন্থানে কিছু স্থানে সাময়িক সময়ে খুলে দেওয়া হলে মহেশখালী উপজেলায় এখনও বন্ধ রয়েছে, এর পাশাপাশি সারা দেশে উপবৃত্তি কার্যক্রমের কারণে সার্ভারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে শুনেছি সার্ভারটি এ মাসের ১০ তারিখ থেকে নতুন ডাইমেনশনে যাবে। এর মধ্যেই আমাদের পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। শুধু মাত্র এই উপবৃত্তির কারণে বা বর্তমান প্রয়োজনের তাগিদে পুরাতন সার্ভারে কাজ চলছে। বিষয়টি আমি অবগত আছি। তারপরেও আমি ওপরে কথা বলে দেখি। যদি সার্ভার সমস্যার কারণে কেউ উপবৃত্তি না পায় তাহলে আমরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনব।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × two =

আরও পড়ুন