সেগুন কাঠ বিক্রির কথা বলে ডেকে নিয়ে গলায় রশি পেছিয়ে যুবককে পাহাড়ে হত্যার চেষ্টা

45204-Pic-24-06-15-3

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

রাঙ্গামাটি শহরে কাঠ বিক্রির কথা বলে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে কবির বেপারী নামে এক যুবককে। বুধবার দুপুরে গুরুত্বর আহত যুবক কবির মূমূর্ষ অবস্থায় রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম রেফার্ড করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আহত যুবকের ভাষ্য অনুসারে এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে প্রাথমিকভাবে বাবু নামের এক যুবককে আটক করেছে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশ। আহত কবিরের বাবার নাম এমরান বেপারী। তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে। সে রাঙ্গামাটি শহরের কলেজ গেইট এলাকায় মাত্র ছয়মাস আগে একটি দোকান ভাড়ায় নিয়ে ফার্নিচারের কাজ করতো বলে জানাগেছে।

হাসপাতালের বেডে যন্ত্রনায় কাতরাতে থাকা কবির এই উপস্থিত সকলের সামনেই বলতে থাকে, আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয় বেলাল মিস্ত্রির ছেলে বাবু আমাকে জানায় তার কাছে কিছু কাঠ আছে। এরপর আমি সেগুলো দেখতে তার কাছে গেলে কাঠগুলো রিজার্ভ বাজারে আছে জানিয়ে মঙ্গলবার বিকেল চারটার সময় আমাকে ডেকে নিয়ে যায় শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায়। এরপর সেখান থেকে আরো কয়েকজনসহ আমাকে জোর করে বোটে তুলে নিয়ে সুবলং অভিমুখে রওয়ানা হয়। এরই মধ্যে কাপ্তাই লেকের মাঝে একটি পাহাড়ে আমাকে তুলে মারধর করতে থাকে। এসময় আমি চিৎকার করতে থাকলে তারা আমার হাত-পা বেধে ফেলে। এসময় আমার কাছে তারা চাঁদা দাবি করে। আমি আমার কাছে কোনো টাকা নাই এবং আমার ভাইদের সাথেও আমার সম্পর্ক ভালো নাই জানালেও তারা আমাকে আবারো মারধর করতে থাকে। এসময় আমাকে দিয়ে আমার এক আত্মীয়র কাছে ফোন করিয়ে তারা ৫ হাজার টাকা বিকাশ করে নিয়ে নেয়।

এরপর একটি রশি দিয়ে আমার গলায় পেছিয়ে ধরে। এসময় আমি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা মনে করে আমি মরে গেছি। আমাকে হাত-পা বাধা অবস্থায় ফেলে রেখে তারা চলে আসে। এরপর সারারাত জঙ্গলে কাটিয়ে আমি ভোরে সাতঁরাতে সাতঁরাতে আমার শরীর ক্লান্ত হয়ে আসলে কচুরিপানা জড়ো করে আমি ভেলার মতো বানিয়ে সেটির উপর ভর করে আমি মাঝ নদীতে আসি। এরপর পানিতে ভাসমান অবস্থায় একজন পাহাড়ি বোটওয়ালাকে ডেকে আমাকে বাচাঁনোর আকুতি জানালে তিনি আমাকে বোটে তুলে সুবলং জুম রেষ্টুরেন্টের মালিকের হাতে তুলে দিয়ে আমাকে হাসপাতালে পৌছে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি চলে যান। এরপর তারা আমাকে একটি বোটে তুলে দেয়। তার মাধ্যমেই আমি রাঙামাটি এসে হাসপাতালে ভর্তি হই।

এক প্রশ্নের জবাবে কবির জানায়, বাবু আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর বাস টার্মিনাল এলাকার মানিকসহ তার সঙ্গীয় আরো তিন যুবক  আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে।

এদিকে এই ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে হাসপাতালে ছুটে যান কোতয়ালী থানার এসআই লিমন। এসময় আহতের সাথে কথা বলে তার ভাষ্য অনুসারে কাঠাঁলতলী এলাকা থেকে বাবুকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যান।

কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রশিদ জানিয়েছেন, আমরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুকে আটক করে নিয়ে এসেছি। সে কবিরকে ডেকে এনেছিলো বলে আমাদের কাছে স্বীকার করেছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন