স্ট্যান্ডরিলিজের দুই মাস পরেও নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি, ছাড়েননি সরকারী বাসা॥ ডেপুটি জেলারের খুঁটির জোর কোথায়?

দুর্নীতি
খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা॥
অনিয়ম, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে স্ট্যান্ডরিলিজের দুই মাস পরেওে নতুন কর্মস্থল রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে যোগদান করেননি খাগড়াছড়ির জেলা কারাগারের সাবেক জেলার ( বর্তমানে ডেপুটি জেলার) মোঃ আবদুল হান্নান।

তিনি এখনো ছাড়েননি খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের সরকারী বাসা। সম্পূর্ন অবৈধভাবে গত প্রায় দুমাস ধরে সরকারী বাসা, বিদ্যুৎ ও পানিসহ সকল সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন। সরকারী চাকুরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে তিনি বাসায় থেকেই জেল সুপারসহ কর্মচারীদের ক্রমাগত হুমকি-ধমকি দিয়ে দিচ্ছেন। ডেপুটি জেলারের এই ঔদ্ধত্বপূর্ন আচরনের কারনে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় সাধারন ডায়েরি দায়ের করেছেন জেল সুপার মোঃ নাসির উদ্দিন প্রধানিয়া। চলমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে একটা প্রশ্নের উত্তর সবাই খুজছে, তা হচ্ছে ডেপুটি জেলার আবদুল হান্নানের খুঁটির জোর কোথায়?

জেলা কারাগার সুত্রে জানা যায়, তিনি খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের জেলার (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে যোগদান করেন গত ১০ আগষ্ট, ২০১৪ইং তারিখে। কারা বিধি অনুযায়ী জেলার জেলা কারাগারের লক বা আনলক করার কথা থাকলেও কখনো এই দায়িত্ব পালন করেননি এই কর্মকর্তা। বন্দিদের জামিন, ওকালত নামায় স্বাক্ষর এবং জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আসামীদের টাকা ছাড়া কারাগার থেকে ছেড়ে দিতেন না এই কর্মকর্তা। এসব বিষয়ে এই ডেপুটি জেলার কখনোই উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আদেশ-নির্দেশ পালন করতেন না, তোয়াক্কাও করতেন না।

এছাড়াও তিনি খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে যোগদানের পর থেকে সরকারী বাসা ব্যাবহারের পাশাপাশি প্রায় ৮০টি ছাগল-ভেড়া লালন-পালন করে বিভিন্নভাবে পরিবেশ দুষন করে চলছেন। জেলা কারাগার সুত্রে আরো জানা যায় ডেপুটি জেলার সরকারী দায়িত্ব পালন না করে কাঠ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। এই বিষয়ে গত ২৮ মে এক বিভাগীয় তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তার সরকারী বাসায় প্রায় ২৫০০ ঘনফুট মুল্যবান সেগুন কাঠ রয়েছে বলে সত্যতা পেয়েছে তদন্দকারী দল।

জেলা কারাগারের একাধিক নিরাপত্তা কর্মী জানান, তিনি খাগড়াছড়িতে যোগদানের পর সরকারী বাসা ব্যবহার করলেও তার পরিবারের কোন সদস্য কখনো এখানে কখনো আসেনি। কিন্তু তিনি সব সময় বিভিন্ন অপরিচিত মহিলাদের আত্মীয়-পরিচয়ে তার বাসায় রাখতেন এবং বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন কারাগারে চাকুরী করাকালীন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির করেছেন, যা কারা বিধি ১ম খন্ডের ১৯২(২)(৩), ১৯৩, ২৪৮, ২৬২, ২৬৫ ধারার অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তাকে বেশ কয়েকবার বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তার বিরূদ্ধে খাগড়াছড়ি ও পঞ্চগড় জেলা কারাগারে বিভাগীয় দু’টি মামলা চলমান আছে।

খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে থাকাকালীন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে গত ১১ মে তারিখে কারা মহাপরিদর্শক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের জেলার পদ থেকে পদাবনতি করে ডেপুটি জেলার হিসেবে তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের তাৎক্ষনিকভাবে যোগাদানের নির্দেশ দেন।

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ডেপুটি জেলার মোঃ আবদুল হান্নান ( ০১৭১১২৬১১২৮) বলেন, এসব তার বিরূদ্ধে ষড়যন্ত্র। কিন্তু তাকে স্ট্যান্ডরিলিজ করার বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে যোগ দেবেন। বিভাগীয় মামলাগুলোর বিষয়েও তিনি জানেন এবং আইনগতভাবে মোকাবিলা করবেন বলে জানান এই প্রতিবেদককে। তিনি কারা অভ্যন্তরে ছাগল-ভেড়া পালন করতে পারেন কিনা এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জবাব না দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।

খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের জেল সুপার মোঃ নাসির উদ্দিন প্রধানিয়া বলেন, তার অপকর্ম সম্পর্কে আপনারা যেমন অবগত আছেন, আমার উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাও অবগত আছেন। আমি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় সাধারন ডায়েরি দায়ের করেছি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন