স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক, যা বললেন এমপি জাফর

fec-image

কক্সবাজার ১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমের স্ত্রী, স্কুল শিক্ষিকা শাহেদা বেগমের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ২১ জুলাই দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (অনু: ও তদন্ত-৫) খান মো. মাজানুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক স্মারক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্মারক পত্রে বলা হয়েছে, শাহেদা বেগমের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক সমন্বিত কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, স্ত্রী শাহেদা বেগমের সম্পদের অনুসন্ধানকে ‘চিহ্নিত মহল ষড়যন্ত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য জাফর আলম। এ বিষয়ে তিনি ক্ষোভ ও উষ্মা প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক আইডিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। ঘটনার জন্য তিনি একজন সাবেক আমলাকে দায়ি করেছেন। সেই সঙ্গে একজন পৌর মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন এমপি জাফর। দুদকের পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ফেসবুকে প্রকাশিত হুবহু স্ট্যাটাস..
নীল নকশা:
কক্সবাজারে তখন ভূমি অধিগ্রহণ, পানি শোধনাগার, দুর্নীতিসহ বেশ কিছু তদন্ত কার্যক্রম চলমান। সেখানে একজন শীর্ষস্থানীয় আমলাসহ জেলার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম আসে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন আমি বিভিন্ন ফোরামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিকে সমর্থন করে এসব দুর্নীতির সমালোচনা করে বক্তব্য দিই।

আমার মুখ বন্ধে তখন ঐ দুর্নীতিবাজ চক্রটির মূলনায়ক একজন উপজেলা পর্যায়ের নেতার মাধ্যমে তাঁর সাথে বসার প্রস্তাব দেন। অন্যথায় প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দেন। আমি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে আমলার হুমকিতে সমঝোতা করতে অস্বীকৃতি জানাই।

তখন ঐ সংঘবন্ধ চক্রটি একজন বিতর্কিত, বিদ্রোহী উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আমার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দেয়। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় তখন আনুষ্ঠানিক তদন্ত হয়নি।

পরবর্তীতে পৌর ও ইউনিয়ন নির্বাচন কেন্দ্রীক দলীয় বিভাজনকে কাজে লাগায় ঐ দুর্নীতিবাজ চক্রটি। নির্বাচনে পরাজিত এক আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যানকে (উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতা) দিয়ে পুনরায় অভিযোগ দেয়ানো হয়। এবার ঐ অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও একজন পৌর মেয়র স্বশরীরে গিয়ে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঐ আমলার অব্যাহত অপচেষ্টায় আমার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ অনুসন্ধানে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।

আমি একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যবর্গ পূর্ণ সহযোগিতা করবো। কিন্তু দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে নিজ দলের কিছু খন্দকার মোস্তাক ও এক দুর্নীতিবাজ আমলার প্রণীত নীল নকশা ইতিহাস হয়েই থাকবে।

উল্লেখ্য, আমার স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। বিএনপির আমলে তাকে বদলি/চাকুরিচ্যুত করতে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আমার তিন সন্তান। বড় মেয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স। পাশাপাশি সাধারণ বীমা কর্পোরেশনে কর্মরত। আমার জামাতা গ্লোবাল স্কলার হিসেবে আমেরিকায় গ্রীন কার্ড পাওয়ার পরও আমার মেয়েকে নিয়ে পিএইচডি শেষে দেশে ফিরে বুয়েটে জয়েন করেছে।

আমার একমাত্র ছেলে মালয়েশিয়ায় একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষে দেশে ফিরে নিজ উপজেলায় একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করছে। পাশাপাশি মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। সে মাধ্যমিক থেকেই কক্সবাজারের অন্যতম মাদক বিরোধী সংগঠন স্বাধীন মঞ্চের অন্যতম সংগঠক হিসেবে মাদক ও বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত।

আমার পুত্রবধু এমবিবিএস শেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশীপ করছে। ছোট মেয়েটি বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। আমার পরিবারের সকল সদস্য সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যস্ত। আমি চাই তারা দৃঢ় প্রত্যয়ে এসব নীল নকশা ছিন্ন করে দেশের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করুক। দিনশেষে সত্যেরই জয় হবে, ইনশাআল্লাহ্..

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × 5 =

আরও পড়ুন