স্বাস্থ্যের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী


স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের কয়েকটি জেলায় অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওইসব এলাকায় প্রথম দিন থেকেই মাঠপর্যায়ের সব স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সবাইকে সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় থেকে মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর পিআইডি সম্মেলন কক্ষে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান ও সমন্বয় বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যা পরিস্থিতি শুরুর পর থেকেই প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোথাও কোনো রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে ২১ হাজার অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সরবরাহ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে আরও এক হাজার ভায়াল মজুত রয়েছে। এ পর্যন্ত সাপে কাটা রোগীদের সবাইকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং একজন রোগীরও মৃত্যু হয়নি বলেও জানান করেন তিনি।
গর্ভবতী নারী, প্রসূতি ও শিশুদের চিকিৎসাসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোনো প্রসূতির জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হলে স্পিডবোট, স্থানীয় নৌকা বা অন্য যেকোনো উপায়ে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বন্যা-পরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৭ লাখ ২৯ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ শুরু হয়েছে। এছাড়া, কেন্দ্রীয় মজুতে আরও ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি ট্যাবলেট সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সরবরাহ করা হবে।
মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, সম্ভাব্য ডায়েরিয়া ও কলেরা মোকাবিলায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯ ব্যাগ খাবার স্যালাইন এবং প্রায় ১০ হাজার ব্যাগ নরমাল স্যালাইন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় কলেরার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়নি। তবে পানি নেমে যাওয়ার পর পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে, তাই স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সাতকানিয়ায় বন্যার পানি হাসপাতালে প্রবেশ করলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পানি নেমে যাওয়ার পর হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম আবার চালু হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠে রয়েছেন। নারী, শিশু, প্রবীণ এবং সাপে কাটা রোগীদের বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে আরও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি।
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
















