টেকনাফে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়

৭ ডিবি পুলিশ সদস্যের ৭ বছর কারাদণ্ড

fec-image

কক্সবাজারের টেকনাফের ব্যবসায়ী গফুর আলমকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ৭ সদস্যের প্রত্যেকের ৭ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে পৃথক ধারার রায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

তারা হলেন, সাবেক এসআই মো. আবুল কালাম আজাদ, এসআই মো. মনিরুজ্জামান, এএসআই ফিরোজ আহমদ, এএসআই আলাউদ্দিন, কনস্টেবল মোস্তফা আজম, কনস্টেবল আল আমিন এবং এএসআই মো. গোলাম মোস্তফা।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কক্সবাজার জেলা দায়রা ও জজ আদালতে এসটি মামলা নম্বর-১০২১/২০১৯ শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করেন বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল। এসময় ৭ আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজকে রায় দিল। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

তিনি জানান, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার সদর মডেল থানার পেছনের সড়কের হোটেল আল গনির সামনে থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদাপোশাকধারী ব্যক্তিরা টেকনাফের ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার স্বজনদের কাছে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দেনদরবারের পর ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় পরিবার। টাকা পৌঁছে দেওয়া হলে পরদিন ভোর রাতে গফুর আলমকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিষয়টি গফুর আলমের স্বজনেরা টেকনাফের লম্বরী সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে জানায়।

সেনা সদস্যরা মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি তল্লাশি করে ১৭ লাখ নগদ টাকা পান। এসময় এসআই মো. মনিরুজ্জামান মাইক্রোবাস থেকে পালিয়ে গেলেও বাকি ৬ পুলিশ সদস্যকে আটক করেন সেনা সদস্যরা।

অপহরণের ঘটনায় ব্যবসায়ী গফুর আলম বাদী হয়ে ডিবি পুলিশের ৭ সদস্যের বিরুদ্ধে ফৌজদারী দণ্ডবিধির ৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৩৪ ধারায় টেকনাফ থানায় মামলা করেন। যার থানা মামলা নম্বর -৩৮/২০১৭, জিআর মামলা নম্বর-৭৮৯/২০১৭ এবং এসটি মামলা নম্বর-১০২১/২০১৯।

ঘটনার প্রায় ১০ মাসের মাথায় ২০১৮ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ৭ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

৭ আসামি বিভিন্ন সময়ে আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল। সেই সঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বর মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় গ্রেফতার ডিবি পুলিশের ৭ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সুপারিশও করেন তদন্ত কমিটি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, কারাদণ্ড, টেকনাফ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + 14 =

আরও পড়ুন