আরাকান আর্মির কাছে সেনাদের আত্মসমর্পণ করতে বললেন মিয়ানমারের জেনারেল

fec-image

মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন আরও একজন জেনারেল। এএ জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা রাখাইনের অ্যান শহরের চিফ অব স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিয়াও কিয়াও থানকে আটক করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) প্রকাশিত আরাকান আর্মির একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আটক জেনারেল রাখাইন রাজ্যে অবস্থানরত সেনা সদস্যদের আরাকান আর্মির কাছে আত্মসমর্পণ এবং অযোগ্য নেতৃত্বের অধীনে আরও মৃত্যু এড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন।

চলতি মাসেই আরাকান আর্মি রাখাইনের তিনটি টাউনশিপ মংডু, তাউংগুপ ও অ্যান দখল করে। এ অঞ্চলে জান্তার পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের ঘাঁটি ছিল।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিয়াও কিয়াও থান জানান, চূড়ান্ত হামলার সময় তার সৈন্যদের খাদ্য, গোলাবারুদ, চিকিৎসা সরবরাহ এবং পানীয় জলের অভাব ছিল।

তিনি বলেন, রাখাইনের ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ এবং যুদ্ধে উদ্ঘাটিত বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার সহযোদ্ধা ও সৈনিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, অযোগ্য নেতার পেছনে আত্মত্যাগ করবেন না। আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে আত্মসমর্পণ করুন। সাদা পতাকা উত্তোলন করুন এবং আপনার অস্ত্র সমর্পণ করুন।

তিনি জানান, আরাকান আর্মি তাদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ২০২০ সালে তাকে এই অঞ্চলে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং সম্প্রতি ওয়েস্টার্ন কমান্ডের সদর দপ্তর দখল করলে তাকে আটক করা হয়। তিনি তার পরিবারকে বলেছেন, তিনি সুস্থ আছেন এবং চিন্তার কোনো কারণ নেই।

আরাকান আর্মি রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৪টি দখল করে নিয়েছে। সিত্তে, কিয়াউকফিউ ও মানাউং এখনো সরকারের নিয়ন্ত্রণে। জান্তা রাজ্যের দক্ষিণে গোয়া টাউনশিপ হারানোর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, আরাকান আর্মি গ্রামীণ অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিয়াও কিয়াও থান রাখাইনের পরাজয় মেনে নিতে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাজ্যে লড়াইয়ের অসুবিধা এবং আরাকান আর্মির যুদ্ধ সক্ষমতার কথাও স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, সেনাদের জীবন ও কল্যাণের কথা বিবেচনা করে আমি রাখাইন রাজ্যে ক্ষয়ক্ষতি মেনে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। দয়া করে বিমান হামলা ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ করুন। অব্যাহত পদক্ষেপ কেবল সামরিক পরিবার এবং জনসাধারণের জন্য দুর্ভোগকে স্থায়ী করবে। যত তাড়াতাড়ি আপনি সাদা পতাকা উত্তোলন করবেন, তত তাড়াতাড়ি আপনি নিরাপদে পৌঁছাতে পারবেন, আপনার পরিবারকে দেখতে পারবেন এবং নতুন বছর উদযাপন করতে পারবেন।

গত সপ্তাহেও অনেক সরকারি সেনা তাদের পরিবারসহ আরাকান আর্মির কাছে আত্মসমর্পণ করে। আরাকান আর্মি জানিয়েছে, তারা আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আইনানুগভাবে আচরণ করছে; খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসাসামগ্রী দিচ্ছে। বৃহস্পতিবারের ভিডিওতে দেখা যায়, আরাকান আর্মির একটি মেডিকেল টিম জান্তা বাহিনীর সদস্যদের চিকিৎসা দিচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন