ইরান যুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প, দেখা দিতে পারে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা


ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধে তিনি ইতোমধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বড় অর্থনীতির দেশগুলো মুদ্রাস্ফীতিসহ মন্দার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রভাব কাটতে লাগবে দীর্ঘ সময়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, লন্ডনভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক পিল হান্ট সতর্ক করে বলেছে, ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে।
পিল হান্টের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় অর্থনীতির দেশগুলো ‘মুদ্রাস্ফীতিজনিত মন্দা’র ঝুঁকিতে পড়বে। অর্থাৎ, একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্যাংকটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও অন্তত দুই সপ্তাহ এর অর্থনৈতিক প্রভাব অব্যাহত থাকবে। তবে বাস্তবে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে যুদ্ধ শেষ হলেও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকতে পারে।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিয়েই যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। অথচ এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ট্রাম্প ব্রিটেনসহ অন্যান্য দেশকে নিজ নিজ জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং হরমুজ প্রণালির সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানান।
পিল হান্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্যালাম পিকারিং বলেন, ‘ট্রাম্প হয়তো পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। এতে দ্রুত সমাধান কঠিন হয়ে পড়ছে এবং যুদ্ধ শেষে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ঝুঁকি বাড়ছে’।
তিনি আরও জানান, যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি খাতের মাধ্যমে পশ্চিম থেকে পূর্বে ছড়িয়ে পড়ছে। এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু অঞ্চলে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই পরিস্থিতি ইউরোপে ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি আরও বাড়বে।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি ১.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২.৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। এর পেছনে জ্বালানির দাম ৪.৯ শতাংশ বেড়ে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী যদি লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা বাড়ায়, তবে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি আরও তীব্র হবে। ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠী সম্প্রতি ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
ক্যালাম পিকারিং আরও বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বড় অর্থনীতিগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে মন্দা দেখা দিতে পারে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সহজে নীতি শিথিল করতে পারবে না, বরং সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে।
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন জনগণকে বাড়তি দামের চাপ থেকে রক্ষায় সরকারের সঙ্গে কাজ করে। ডাউনিং স্ট্রিটে এক বৈঠকে তিনি বলেন, সরকার একা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবে না।

















