উপদেষ্টা ডা. জাহেদের সঙ্গে ভারতের অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ


প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের সঙ্গে ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে অসৌজন্যমূলক আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সম্পর্কীয় বিশ্লেষক মেহেদী হাসান পলাশ। পরবর্তীতে ডা. জাহেদ ইমিগ্রেশন সুবিধা পেয়েও ভারতে প্রবেশ না করে দেশের মর্যাদা ও সম্মান ধারণ করে ফিরে আসার প্রতিবাদী সিদ্ধান্তের জন্যও সাধুবাদ জানান তিনি।
১৫ জুন সাংবাদিক মেহেদী হাসান পলাশ তাঁর ভেরিফায়েড ফেইসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী রেজিমে ভারতীয় হেজিমনির বিরুদ্ধে যে গুটি কয়েক মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতেন ডা. জাহেদ উর রহমান ডা. জাহেদ উর রহমান তাদের অন্যতম। জুলাই আন্দোলনে তিনি ছিলেন সোচ্চার। এজন্য ভারত সরকার তার ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল সেদেশে নিষিদ্ধ করেছিল। এবং তিনি ভারতীয় ভ্রমণ নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। কূটনৈতিক পাসপোর্টে তার পোর্ট এন্ট্রি সুবিধা পাওয়ার কথা, কিন্তু ভারতে সরকারি সফরে গেলেও ডাক্তার জাহেদ সাধারণ পাসপোর্ট নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার কাছে প্রয়োজনীয় সমস্ত ডকুমেন্ট ছিল। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের একজন উপদেষ্টাকে ভারতীয় ইমিগ্রেশনে যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’
মেহেদী হাসান পলাশ তাঁর পোস্টে আরো উল্লেখ করেন যে, ‘আমি এটাকে খুব স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখতে পারছি না। ভারতীয় এই আচরণকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি ভারতীয় নীতির প্রতিফলন হিসেবে আমার কাছে দৃশ্যমান। একই সাথে শিক্ষনীয় এটাও যে, নানা পরিস্থিতিতে আমরা যতই ভারতের প্রতি সহানুভূতি দেখাই, ভারত তার নীতিতে অটল। ভারত যে ডাক্তার জাহেদের ভারতীয় হেজিমনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন টকশোতে বলা কথাবার্তা অবস্থানগত পরিবর্তন সত্ত্বেও ভোলে নাই এটা তার প্রমাণ। আশা করি সরকার এই অবমাননার যোগ্য প্রতিউত্তর দেবে।’
ডা. জাহেদ তাঁর আত্মসম্মানবোধ এবং দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সমর্থন জানিয়ে সাংবাদিক মেহেদী হাসান পলাশ পোস্টে লেখেন যে, ‘এটি ভারতের আচরণের যোগ্য প্রতিবাদ। ভারতীয় ইমিগ্রেশন কেবলমাত্র বাংলাদেশের একজন উপদেষ্টাকে অসম্মান করে নাই, বাংলাদেশকে অসম্মান করেছে। কেননা তিনি সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরবর্তীতে তাকে ইমিগ্রেশন সুবিধা দেয়া সত্বেও তিনি যে প্রবেশ না করে দেশের মর্যাদা ও সম্মান ধারণ করে ফিরে আসার যে প্রতিবাদী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটা কে সাধুবাদ জানাই। ডাক্তার জাহেদ প্রমাণ করেছেন, এই বাংলাদেশ হাসিনার বাংলাদেশ নয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী এয়ারপোর্টে ভারতীয় নর্তকিদের সাথে নাচানাচি করবেন। এই বাংলাদেশের সাথে সম্মানের সাথে ডিল করতে হবে। এটি তারেক রহমানের বাংলাদেশ। আত্মমর্যাদা, শ্রদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ, সিপাহী জনতার বিপ্লব ও ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো বাংলাদেশ। একে সম্মান দেখিয়ে ডিল না করলে প্রতিবাদ হবে সবখানে।’
উল্লেখ্য, ডা. জাহেদ উর রহমান দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেখানে দায়িত্বরতরা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেয় এবং এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে। তবে ডা. জাহেদ আর ভারতে প্রবেশ না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং অন্য একটি ফ্লাইটে দেশের পথে রওয়ানা হন। গতকাল রাতেই এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দেন জাহেদ উর রহমান। আজ ভোরে তিনি কলম্বো পৌঁছান। সকাল আটটার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
সোমবার থেকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই বৈঠকে তাঁর বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।

















