কেন্দ্রের নির্দেশ উপেক্ষা করে খাগড়াছড়িতে ‘লাঙ্গল’ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় সোলায়মান আলম শেঠ

মুজিবুর রহমান ভুইয়া :
জাতীয় পার্টির ভিতরে যখন চলছে একদিকে বহিস্কার আর অন্যদিকে পদ হারানোর ভীতি ঠিক তখনই দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও তার নির্দেশ উপেক্ষা করে খাগড়াছড়িতে ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার সমš^য়কারী আলহাজ্ব সোলায়মান আলম শেঠ। নির্বাচনী প্রতীক ‘লাঙ্গল’ পাওয়ার পর বিজয় দিবসের দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারনা শুরু করলেন পার্বত্য খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের এ প্রার্থী।
ইতিমধ্যে কেন্দ্র থেকে সাবেক মেয়র ও আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য একতরফা নির্বাচন বর্জনকারী মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়কারীর দায়িত্ব দেয়ার পর সোলায়মান শেঠ‘র সাংগঠনিক অবস্থান কি তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সচেতনমহলে। তবে কি সোলায়মান শেঠও বহিস্কার হচ্ছেন বা তাকে কি বহিস্কার করা হয়েছে এমন জিজ্ঞাসাও সকলের মুখে মুখে। এটা কি তাকে শায়েস্তা করতে করা হলো কিনা এমন প্রশ্ন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে।
সকলের জানতে চাওয়ার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে সোলায়মান শেঠ কি জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে ‘নায়ক’ থেকে ‘খলনায়ক’ হতে চলেছেন ? এদিকে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে খাগড়াছড়িতে সোলায়মান শেঠ‘র প্রচার-প্রচারণা শুরু করা এবং নির্বাচন নিয়ে তাদের অবস্থান কি জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো: শাহাজ উদ্দিন পার্বত্যনিউজকে বলেন, সকলেই জানে জাতীয় পার্টি একতরফা নির্বাচন বর্জন করেছে। তবে সারাদেশের কিছু স্বার্থান্বেষী নেতা আওয়ামীলীগের সাথে আঁতাত করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এবং পার্টির নেতা হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে অসুস্থতার অজুহাতে হাসপাতালে আটকে রেখে তাদেরকে লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, খাগড়াছড়িতে বহিরাগত সোলায়মান আলম শেঠকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করতে জেলা জাতীয় পার্টির সকল নেতাকর্মীকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে সোলায়মান শেঠ কি খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী না জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী সে বিষয়টি এখনো অন্ধকারেই রয়ে গেছে। ইতিমধ্যে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় খাগড়াছড়িতে সোলায়মান আলম শেঠকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন্। ফলে খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগ-জাতীয় পার্টি জোটের নির্বাচনী রাজনীতি বা সমঝোতা নিয়ে ধুম্রজালের মধ্যে রয়েছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীসহ সাধারন ভোটাররা।
আওয়ামীলীগের তৃনমুল নেতাকর্মীদের প্রশ্ন একটাই খাগড়াছড়িতে শেখ হাসিনার প্রার্থী কে ? সোলায়মান আলম শেঠ শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে বহিস্কারের বলি হলে খাগড়াছড়ির নির্বাচনী মাঠে কে হবেন মহাজোটের প্রার্থী এমন প্রশ্নের ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে। আজ খাগড়াছড়িতে তার প্রধান নির্বাচনী অফিসে প্রচার-প্রচারণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সোলায়মান আলম শেঠ। এসময় তিনি বলেন, আমি অনেক পেয়েছি। পেতে নয় খাগড়াছড়িবাসীকে আমি দিতে এসেছি। ‘শান্তির জন্য পরিবর্তন, পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টি’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন খাগড়াছড়ির নির্বাচনী মাঠে ‘বহিরাগত’ হিসেবে পরিচিত আলহাজ্ব সোলায়মান আলম শেঠ।
ইতিমধ্যে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলাতে পোষ্টার লাগানোর মাধ্যমে প্রচারনার প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে সোলায়মান সমর্থকরা। আগামীকাল মঙ্গলবার সোলায়মান আলম শেঠ‘র জেলার ভোটের রাজনীতিতে অতি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে পরিচিত মাটিরাঙ্গা সদরে সমাবেশ করার কথা রয়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বিহীন এ নির্বাচনের মহেন্দ্রক্ষন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ধুম্রজালের মধ্যে আটকে যাচ্ছে ভোটররা। কি হতে চলেছে খাগড়াছড়ির নির্বাচনী মাঠে, কোন সমীকরণ চলছে, কি খেলা চলছে, কোথায় কি দাঁড়াবে খাগড়াছড়ির নির্বাচনী সর্মীকরণ এমন প্রশ্নের উত্তর খুজে চলেছে খাগড়াছড়ির সচেতন ভোটার মহল।


















