ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৩শ নারী বিনামূল্যে ডিপ্লোমা কোর্সের সুযোগ পাচ্ছে, বাঙালিরা উপেক্ষিত


জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইউএনএফপিএ-এর অর্থায়নে তিন পার্বত্য জেলার ৩০০ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ঢাকাস্থ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তবে, এ সুযোগ বৃহৎ বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্য নয়, যা বৈষম্যমূলক বলে মনে করছেন বাঙালি সংগঠনের নেতারা।
গত ২ মার্চ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত শুধুমাত্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী প্রার্থীরাই এই ডিপ্লোমা কোর্সে অংশ নিতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে আগামী ৯ মার্চ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে ১০ মার্চ এবং বান্দরবান জেলা পরিষদকে ১১ মার্চ ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সে অধ্যয়নে আগ্রহী ও যোগ্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের নিমিত্তে ব্যাপকভাবে প্রচারসহ বিভিন্ন উপজেলা হতে শিক্ষার্থীদের মেলাস্থলে আনায়ন, তাৎক্ষণিক অনলাইন আবেদন সম্পন্ন লজিস্টিক সহায়তা ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে অনুরোধ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদকে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন, লজিস্টিক সহায়তা ও প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য দূর্গম পার্বত্য অঞ্চলে মাতৃ ও শিশু মৃত্যু রোধ, টেকসই প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং নারীর ক্ষমতায়ন। তবে, বাঙালি প্রার্থীদের সুযোগ না দেওয়ায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় নেতারা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আলমগীর কবীর বলেছেন, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য সফল করতে হলে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের নারীদের সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে সুবিধা দেওয়ায় এটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাঙালি সংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন, বাঙালি নারী প্রার্থীদেরও এই ডিপ্লোমা কোর্সে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়।

















