গর্ত ও খানাখন্দে ভরপুর মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়ক

Rangamati Baghaichary road Pic-16.09.13.doc

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি:
সংস্কারের অভাবে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের ১২ কিলোমিটার জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত ও সড়কজুড়ে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে উপজেলা থেকে বাইরে যাওয়ার একমাত্র যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা এলাকাবাসীর। এদিকে জেলা-উপজেলা সড়কগুলো যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে হস্তানান্তর করার কারণে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে বলে জানা গেছে।  

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, উপজেলা থেকে বাইরে একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম এই সড়কটি। বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা যানচলাচল করছে। উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত খানাখন্দে ভরা। পানছড়ি, বটতলা, ছয় কিলো ও নয় কিলো এলাকায় আট থেকে ১০ হাত র্দীঘ বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে। এসব গর্তে শুধু আগষ্ট মাসে অর্ধশতাধিক মটরসাইকেল গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা কবলে পড়ে।

যাতায়াতের অন্য কোনো মাধ্যম না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে যে কোনো সময় যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার অশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কজুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে ইট-সুরকি পর্যন্ত নেই। রক্ষাদেয়াল না থাকায় আট-দশটি স্থানে সড়কের মাটি সরে যাচ্ছে। চার থেকে পাঁচ স্থানে আট থেকে ১০ হাত র্দীঘ বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে। অন্যদিকে পাগয্যাচড়ি এলাকায় সড়কে চার ফুট অংশ ধসে গেছে। দুই কিলো, তিন কিলো, চার কিলো ও নয় কিলো এলাকায় বড় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত ছোট-বড় শতাধিক গর্ত ও ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মারিশ্যা-দীঘিনালা ২২ কিলোমিটার সড়কটি নির্মাণ করে। ২০০৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে হস্তানান্তর করা হয়। সড়কের ১০ কিলোমিটার সড়কে যানচরাচল করার উপযোগী থাকলেও ১২ কিলোমিটার চলাচলের অনুপযোগী। ১২ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে কোথাও ভেঙ্গে গেছে, কোথাও কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগে সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন তিন পার্বত্য জেলার জেলা-উপজেলা সড়কগুলো যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে হস্তানান্তর করা হয়।

১ জুলাই থেকে তিন পার্বত্য জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড বন্ধ রেখেছে। পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে  তিন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবে ওই সড়কগুলো জেলা পরিষদ দেখভাল দায়িত্ব পড়ে। কিন্তু তাদের জনবল ও যন্ত্রপাতি না থাকায় এই সড়কগুলো দায়িত্ব নিতে রাজি নয় জেলা পরিষদ।

এবিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য বৃষকেতু চাকমা বলেন, আমি শুনেছি জেলা-উপজেলা সড়কগুলো জেলা পরিষদের দেখাশুনা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন, কিভাবে এবং লিখিত কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে চেয়ারম্যান মহোদয় যোগাযোগ মন্ত্রী সঙ্গে দেখা করার জন্য ঢাকায় গেছে।

বাঘাইছড়ি এলজিইডির প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক বলেন, মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ দেখাশোনা করে। কিন্তু ব্যাপক ভাঙন ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যেগুলো বেশি ভাঙন ও বড় গর্তগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইসমাইল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেমের কারণে ১ জুলাই থেকে সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। উপরে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোনো সংস্কার কাজ করতে পারছিনা। শুধু মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়ক নয় খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়ক বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মারিশ্যা বিজিবি জোনের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. আফজাল হোসেন তালুকদার বলেন, সড়কজুড়ে গর্ত ও খানাখন্দ ভরা। পাগয্যাছড়ি এলাকায় বড় একটি ভাঙন ধরছে। ইতিমধ্যে সড়কের কিছু অংশ ধসে গেয়ে। দ্রুত সংস্কার করা না হয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। আমি এবিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগে কথা বলেছি। কিন্তু তাঁদের কাজকর্ম আপাতত বন্ধ রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন