গাজায় ইসরাইলী হামলায় ৬১ ফিলিস্তিনি নিহত


ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজাজুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ৬১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ত্রাণ নিতে গিয়ে মারা গেছেন ১৯ জন। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গাজা শহরের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র বোমাবর্ষণ চালানো হয়েছে।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) জানিয়েছে, অপুষ্টি ও অনাহারে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে ১২১ জনই শিশু।
উপত্যকার সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্র গাজা শহর দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইলি সেনারা। তবে আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, এ অভিযানে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটবে এবং সেখানে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হবেন।
জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই অভিযানের সমালোচনা করেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার বলেছেন, এটি যুদ্ধের ‘একটি নতুন ও ভয়াবহ ধাপের সূচনা’।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘গাজা শহরে সেনা অভিযান ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে। ইতোমধ্যেই ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত লাখ লাখ বেসামরিক নাগরিক আবারো ঘর ছাড়তে বাধ্য হবেন। যা তাদের আরো গভীর বিপদের দিকে ঠেলে দেবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মূলত ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্তের ফল, যা মানবিকতার পরিপন্থী।’
গাজা শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনী শুজাইয়া, জেইতুন ও সাবরা এলাকায় বোমাবর্ষণ করছে। বহু পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে উপকূলের দিকে ছুটছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি স্থল অভিযানে ১৫০০টিরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় জেইতুনের দক্ষিণাঞ্চলে আর কোনো ভবন অক্ষত নেই।
এদিকে, জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা ‘গুম হয়ে যাওয়া’ ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাদের মতে, ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রে খাবারের খোঁজে যাওয়া একজন শিশুসহ কিছু মানুষ জোরপূর্বক নিখোঁজ হয়েছেন। সাতজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘ক্ষুধার্ত মানুষকে গুম করা কেবল বিস্ময়করই নয়, বরং এটি নির্যাতনের শামিল।’
সূত্র : আল জাজিরা

















