২৭ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট পুনরায় চালু

fec-image

২৭ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। জাপান এয়ারলাইন্স (জেএএল) এবং এয়ার কানাডার সঙ্গে একটি প্রস্তাবিত কোডশেয়ার অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই পুনরুজ্জীবিত রুটটিকে উত্তর আমেরিকায় যাওয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক বছরেরও বেশি সময় স্থগিত থাকার পর জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের একমাত্র নন-স্টপ বিমান সংযোগটি পুনরায় চালু করার জন্য জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

প্রাথমিকভাবে, বিমান সংস্থাটি তাদের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমান দিয়ে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। যাত্রীর চাহিদা ও বিমানের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে পর্যায়ক্রমে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

মূলত ৩০ জুন পুনরায় চালুর কথা থাকলেও, জাপান সিভিল অ্যাভিয়েশন ব্যুরো (জেসিএবি) চূড়ান্ত পরিচালন অনুমোদন দেওয়ার আগে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিরীক্ষা চাওয়ায় তা বিলম্বিত হয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বুধবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা—বাসসকে এ ব্যাপারে জানান। তিনি বলেন, ‘নারিতা ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য বিমান সব প্রস্তুতি নিয়েছে।’

জাপানে বিপুল বাংলাদেশি শিক্ষার্থী থাকার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও কর্মীসহ ৪০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি এখন জাপানে বসবাস করছেন এবং এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সহ জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।’

এই রুটের বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিষেবাটি স্থগিত করার আগেই লাভজনক হয়ে উঠেছিল। ’

তিনি বলেন, ‘শুরুতে লোকসান হলেও তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এটি লাভ-লোকসান সমান করে লাভজনক হয়ে ওঠেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে এটি স্থগিত করা হয়েছিল।’

লাভজনক হওয়ার পরও এই রুট বন্ধ করার ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করে মো. রশিদুজ্জামান বলেন, ‘এটা আশ্চর্যজনক যে, পূর্ববর্তী সরকার একটি লাভজনক রুট চালু রাখেনি। আমরা এখন সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।’

বিমানের পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) আশরাফুল আলম বলেন, ‘যাত্রীদের সাড়া অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। আমরা খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। সব আসন ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। বিশেষ করে নারিতা থেকে ঢাকা ফিরতি ফ্লাইটের।’

বিমানের ঘাটতি, পরিচালন ব্যয় এবং বাণিজ্যিক বিবেচনার কথা উল্লেখ করে বিমান ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ঢাকা-নরিতা রুটে ফ্লাইট স্থগিত করে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গভীর করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিমান সংস্থাটিকে এই পরিষেবা পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুনরুজ্জীবিত এই রুটটি বিমানের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে একটি কৌশলগত ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান সংস্থাটি জেএএল এবং এয়ার কানাডার সঙ্গে একটি কোডশেয়ার অংশীদারত্ব চালুর জন্য কাজ করছে, যার মাধ্যমে যাত্রীরা একটিমাত্র টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ব্যাগেজ চেক-থ্রু ব্যবহার করে নারিতা হয়ে ঢাকা থেকে ভ্যাঙ্কুভার এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারবেন।

প্রস্তাবিত এই চুক্তির অধীনে, নারিতাগামী বিমানের ফ্লাইটে ভ্রমণকারী যাত্রীরা আলাদা টিকিট না কিনেই জেএএল এবং এয়ার কানাডার কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াগামী ফ্লাইটে সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন।

বিমান সংস্থার কর্মকর্তারা মনে করেন, এই ব্যবস্থাটি কানাডার পশ্চিম উপকূল এবং পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী যাত্রীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে নারিতা রুটকে উলে¬খযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে, যেখানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসী বসবাস করেন।

গত বছর জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীর সঙ্গে এক বৈঠকে জেএএল-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট আবে মোতোহিসা বলেন, ‘প্রতি বছর প্রায় ৭০,০০০ যাত্রী কানেক্টিং ফ্লাইটের মাধ্যমে টোকিও ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াত করেন, যা সরাসরি পরিষেবার জন্য শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। ’

বিমান ১৭ বছরের বিরতির পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট চালু করে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আন্তর্জাতিক
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন