চকরিয়ায় ত্রিমুখি সংঘর্ষে ১ বিএনপি কর্মী নিহত : আহত ২০

Cox dead

আবদুল্লাহ নয়ন, কক্সবাজার :

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখি সংঘর্ষে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি। ওই সময় বেশ কিছু দোকানপাট ও যানবাহন ভাংচুর করা হয়। শুক্রবার বিকেলে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত জাকের হোসেন চকরিয়া পৌর এলাকার মৃত আকবর হোসেনের পুত্র বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকাল ৩ টায় চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় চকরিয়া উপজেলা যুবদলের সাংগঠণিক সম্পাদক আবদুল হালিমের নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। নামাযে জানাযা শেষে একদল বিএনপি কর্মী চকরিয়া থানার রাস্তার মোড়ে দাঁড়ানো কয়েকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশকে ধাওয়া করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথম দফায় ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এতে বিএনপি কর্মীরা মিছিল সহকারে চকরিয়া স্টেশনে এসে বিভিন্ন প্রকার যানবাহন ভাংচুর করে। ওখানে অতিরিক্ত সংখ্যক পুলিশ যায়। ওখানে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা হয়। এতে বিএনপি’র কর্মীদের ইটপাটকেল এবং পুলিশের ফাঁকা গুলি বর্ষণ হয়।

 এসময় অন্তত ৩০ টি যানবাহন ভাংচুর হয়েছে। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকাল ৪ টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ছিল। কিন্তু বিকাল সাড়ে ৪ টায় চকরিয়া স্টেশনে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা এসে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধাওয়া শুরু করে। এতে ত্রিমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত পর্যন্ত এ ঘটনা চলমান ছিল। এ ঘটনায় ব্যাপক গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনায় জাকের হোসেন নামের এক ব্যক্তি গুরুতর অবস্থায় চকরিয়া জমজম হাসপাতালে নেয়া হয়। ওখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে জাকের হোসেন মৃত্যু হয়।

চকরিয়া পৌর মেয়র ও চকরিয়া পৌর বিএনপি’র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হায়দার জানিয়েছেন, গুলিতে জাকের হোসেন নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। জাকের হোসেন পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সদস্য।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে ৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল সূত্র। তবে এদের নাম জানা যায়নি।

চকরিয়া থানার ওসি রণজিত কুমার বড়ুয়া জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পুলিশের ৮ সদস্য আহত হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতদের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত নন। খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, অবরোধ চলাকালিন সময়  মঙ্গলবার পুলিশ উপজেলা  আবদুল হালিমকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করে। আবদুল হালিম বুধবার জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অসুস্থ অবস্থায় চকরিয়াস্থ মালুমঘাটস্থ খিস্ট্রান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওখানে বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিএনপি’র অভিযোগ পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কক্সবাজার জেলায় রোববার সকাল-সন্ধ্যায় হরতাল ঘোষণা করেছে বিএনপি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন