চিকিৎসক সংকটে খাগড়াছড়িতে স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়েছে


খাগড়াছড়িতে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সংক্রমনের হার দাঁড়িয়েছে ৩১.৮ শতাংশে। সে সাথে চিকিৎসক সংকটে খাগড়াছড়িতে স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়েছে।খাগড়াছড়িতে প্রয়োজনের অর্ধেক চিকিৎসক ও নার্স নিয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা। এতে করে কাঙ্খিত সেবা পেতে যেমন ভোগান্তিতে পড়ছে রোগী ও স্বজনরা তেমনি হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরাও।
জেলা সদর হাসপাতাল থেকে শুরু করে উপজেলার হাসপাতালগুলোর একই চিত্র। করোনা পরিস্থিতিতে আরো বেড়েছে এ সংকট। উপজেলা পর্যায় থেকে সংযুক্তিতে জেলা সদরে চিকিৎসক আনায় অনেক উপজেলায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসেবা। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিতরা ছুটছেন বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে। এক্ষেত্রে বেশি ভোগান্তিতে হত-দরিদ্র মানুষগুলো।
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল কাগজে কলমে এক’শ শয্যার হলেও ৫০ শয্যার জনবলে চলছে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে। সেখানেও বিশ জন চিকিৎসকের বিপরীতে জরুরী বিভাগসহ ৪ জন মেডিকেল অফিসারের পদ শুন্য। উপজেলা পর্যায় থেকে সংযুক্তিতে সদরে চিকিৎসক আনায় অনেক উপজেলায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। চিকিৎসকের পাশাপাশি শুন্যপদ রয়েছে নার্সেরও। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিতরা ছুটছেন বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে। এক্ষেত্রে বেশি ভোগান্তিতে হত-দরিদ্র মানুষগুলো।
নাম প্রকাশ শর্তে বেশ কয়েক চিকিৎসা প্রার্থী জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে যাচ্ছেন।
উপজেলা পর্যায় থেকে সংযুক্তিতে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক আনায় অনেক উপজেলার হাসপাতালগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার জানান, হাসপাতালে জনবল তীব্র সংকট বিরাজ করছে। মে মাসে হাসপাতাল থেকে তিন ডাক্তার চলে গেছেন। বর্তমানে বিশাল জন অধ্যুষিত দীঘিনালা উপজেলা হাসপাতালে মাত্র তিন জন চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা চলছে। অথচ দিঘীনালা হাসপাতালে প্রতিদিন আউট ডোর ও ইনডোর মিলে দুই থেকে আড়াই শত রোগি আসছে। তিনি বলেন, অল্প সংখ্যক ডাক্তার নিয়ে করোনা পরিস্থিতি চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে না। রোগিরাও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি এমন পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণ চান।
দীঘিনালা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কাসেম বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে জেলার ৯টি উপজেলার পাশাপাশি পাশ্ববর্তি জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার বাসিন্দারাও চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে কাঙ্খিত সেবা নিয়ে ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নে সরকারের হস্তক্ষেপ চান জনপ্রতিনিধিরা।
খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডাক্তার নুপুর কান্তি দাস জানান, চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও ১৮ জনের বদলীজনিত কারণে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবার নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তরে জানানোর পরও করোনা পরিস্থিতির কারণে পদায়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান সিভিল সার্জন।
খাগড়াছড়িতে ১’শ ২৯ জন চিকিৎসকের মঞ্জুরি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৭৪ জন। ২’শ ২৫ জন নার্সের বিপরীতে আসেন ১’শ ১৫ জন। এ ছাড়াও সংকট রয়েছে অক্সিজেন সহ আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার।

















