জাকসুর ভিপি স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতু, জিএস শিবিরের মাজহার


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে ৩ হাজার ৩৩৪ ভোট পেয়ে ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ প্যানেল থেকে আব্দুর রশিদ জিতু। আর জিএস পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী’ প্যানেল থেকে মো. মাজহারুল ইসলাম। মাজহার পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৩০ ভোট।
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ৭টা ২৮মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাকসুর চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়। ভিপি ও জিএস পদের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান। ২১টি হলের রিটার্নিং অফিসাররা নিজ নিজ হলের ফল ঘোষণা করেন।
এর আগে আজ বিকেল ৫টা ৫মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সদস্য সচিব সিনেট কক্ষে প্রবেশ করেন। মারা যাওয়া শিক্ষকের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে ৫টা ১৫ মিনিটে জাকসুর চূড়ান্ত ফল ঘোষণা শুরু হয়। ফল ঘোষণা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব ও প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম।
নির্বাচনে জিতু পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৩৪ ভোট এবং মাজহার পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৩০ ভোট। এছাড়া এজিএস ফেরদৌস ২ হাজার ৩৯৮ ভোট এবং মেঘলা ৩ হাজার ৪০২ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ফেরদৌস আল হাসান এবং এজিএস (নারী) পদে দর্শন বিভাগের আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যান্য পদে যারা নির্বাচিত হয়েছেন- শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ফার্মেসি বিভাগের আবু উবায়দা উসামা (২৪২৮), পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সম্পাদক পদে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সাফায়েত মীর (২৮১১), সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ইংরেজি বিভাগের জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি (১৯০৭), সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শেখ জিসান আহমেদ (২০১৮) ও সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের রায়হান উদ্দিন (১৯৮৬), নাট্য সম্পাদক হিসেবে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের রুহুল ইসলাম (১৯২৯), ক্রীড়া সম্পাদক পদে বাংলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের মাহমুদুল হাসান কিরণ (৫৭৭৮), সহ-ক্রীড়া (ছাত্র) পদে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মাহাদী হাসান (২১০৫) ও সহ-ক্রীড়া (ছাত্রী) পদে গণিত বিভাগের ফারহানা লুবনা (১৯৭৬)।
আইটি ও গ্রন্থাগার পদে ফার্মেসি বিভাগের রাশেদুল ইমন লিখন, সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন পদে আহসান লাবিব (১৬৯০), সহ-সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন পদে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের (ছাত্র) তৌহিদ হাসান (২৪৪২) এবং সহ-সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন (ছাত্রী) পদে ফার্মেসি বিভাগের নিগার সুলতানা (২১৬৬)।
স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক পদে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের হুসনী মোবারক (২৬৫৩) এবং পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের তানভীর রহমান (২৫৫৯) নির্বাচিত হয়েছেন ।
এছাড়াও কার্যকরী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন ফাবলিহা জাহান নাজিয়া (২৪৭৫), নাবিলা বিনতে হারুন (২৭৫০), নুসরাত জাহান ইমা (৩০১৪), হাফেজ তরিকুল ইসলাম (১৭৪৬), আবু তালহা (১৮৫৪) ও মোহাম্মদ আলী চিশতী (২৪১৪)।
প্রায় ৩৩ বছর পর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে অনুষ্ঠিত হয় জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোটের আগের দিন রাতে বাম সংগঠন ও ছাত্রদল প্যানেলের প্রার্থীরা ভোট গণনার মেশিন সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের মালিক জামায়াত নেতা- এমন অভিযোগ তোলেন। নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তখন মেশিনের পরিবর্তে হাতে ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নেয়। ভোটের দিন বিকেল সাড়ে তিনটায় ছাত্রদল নির্বাচন বর্জন করে। পরে সন্ধ্যা সাতটায় বামসমর্থিত আরও চারটি প্যানেল ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। আটটি প্যানেলের মধ্যে পাঁচটির ৬৮ জন প্রার্থী ভোট বর্জন করলেও বাকি তিন প্যানেলের ১১১ জন প্রার্থী নির্বাচনে নানা অভিযোগের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত ভোটে রয়েছেন।
ছাত্রসংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে ব্যালট বাক্স সিনেট ভবনে নেওয়া হয়। সব প্রস্তুতি শেষে রাত ১০টার পর শুরু হয় গণনা। দীর্ঘ প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে ভোট গণনা চলে।
জাকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ভোটার ৬ হাজার ১৫ জন এবং ছাত্রী ভোটার ৫ হাজার ৭২৮ জন। ভোট পড়েছে ৮ হাজার ৩টি। এটি মোট ভোটের প্রায় ৬৮ শতাংশ। জাকসুর ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন লড়ছেন। এছাড়া হল সংসদের লড়ছেন ৪৪৫ প্রার্থী।

















