টেকনাফের ৫৬জনসহ বাংলাদেশের ১০৬ জন নাগরিক মিয়ানমারের আকিয়াব কারাগারে
মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান,টেকনাফ:
চোরাইপথে সাগর দিয়ে টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় আটক হয়ে গত ২ বছর ধরে মিয়ানমারের আকিয়াব (সিটওয়ে) জেলখানায় বন্দি বাংলাদেশের ১০৬ জন বণিআদম মুক্তির প্রহর গুনছে। তম্মধ্যে টেকনাফ উপজেলার বসিন্দা রয়েছে ৫৬ জন। আবার এর মধ্যে ১০ জন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। তাদের পরিবার-পরিজন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করছে। তাছাড়া যারা টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করেছে তাদের অনেকেই রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে। মানবিক বিবেচনায় ১০ দিনের মধ্যে ঠিকানা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে তাদের তালিকা আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির মাধ্যমে ঢাকা সদর দপ্তর ট্রেসিং বিভাগ হয়ে টেকনাফে এসে পৌঁছেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর টেকনাফ রেডক্রিসেন্ট কার্যালয় সূত্রে এতথ্য জানা গেছে। এরা হচ্ছে- চান্দলীপাড়া ইলিয়াছের পুত্র নুরুল ইসলাম (৩৪), আবদুর রহমানের পুত্র আনোয়ার সাদেক (৩২), শাহপরীরদ্বীপ মাঝেরপাড়া নুরুল আমিনের ৪ পুত্র হারেস উল্লাহ (৩৭), শামসুদ্দিন (৩৫), ছৈয়দুল্লাহ (৩২), ওমর ফারুক (২৮), রফিক (২৫), লেদা মোঃ বশরের পুত্র জুবাইর (৩০), মৌলভীপাড়া আবুল কালামের ২ পুত্র আজগর আলী (৩৭), আকবর আলী (৩৫), খয়রাতিপাড়া আবদুর রহমানের পুত্র সামসুল আলম (৩৪), রবিউল আলমের পুত্র নবী আলম (৩৬), শাহপরীরদ্বীপ বাজারপাড়া কেফায়ত উল্লাহর পুত্র আজম উল্লাহ (৩৭), রশিদ সালামের ২পুত্র এরশাদুল্লাহ (৩২), ছৈয়দুল্লাহ (৩০), মমতাজ মিয়ার পুত্র আবু তাহের (৪০), মোঃ জালালের পুত্র কামাল হোছন (৩৪), জালিয়াপাড়া মোঃ রসিদের ২পুত্র কামাল হোছন (৩২), নজুম উদ্দিন (২৯), ওমর কাজির পুত্র মোঃ শফি (৩৮), মোঃ রফিকের পুত্র দিলু বলি (৩৫), লাতুরীখোলা মোঃ কালুর পুত্র ইসমাইল (৩৩), বনি আমিনের পুত্র রাহমত উল্লাহ (৩৬), মুন্ডারডেইল নুরুল আমিনের পুত্র আনুয়ারুল ইসলাম (৩৬), লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প ডি ব্লকের জহির উদ্দিনের পুত্র জকরিয়া (৩৪), নুর আলমের পুত্র আবদুস শুকুর (৩৪), সি ব্লক নুরুল হাসিমের পুত্র মোঃ সায়ের (৩২), ফজল করিমের পুত্র ইমান হোছন (৩৭), এ ব্লক সুনা আলীর পুত্র মোঃ হোছাইন (৩৬), আবদুস শুকুরের পুত্র মোঃ আমিন (৪০), ই ব্লক ইলিয়াছের পুত্র ইউনুস (৩৪), সাকের ড্রাইভারের পুত্র জাফর উল্লাহ (৩০), নুরুল আমিনের পুত্র ছৈয়দুল আমিন (৪০), কুতুপালং সি ব্লক জমিল হোছাইনের পুত্র সামসুল আলম (৩৭), গোদারবিল ছৈয়দ আলমের পুত্র মোঃ আয়াছ (৩৫), মনিরঘোনা এজাহার মিয়ার পুত্র নুর আহমদ (৩৮), তুলাতলী মখলেছর রহমানের পুত্র হাফেজ আমির হোসেন (৩০), নুরুল আলমের পুত্র ছৈয়দ আলম (৩৮), নজির আহমদের পুত্র জাবের (৩৪), মোঃ তৈয়বের পুত্র আমির হোসেন (৩৭), শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া আবদুল হাকিমের পুত্র রসিদ উল্লাহ (৩৫), আছারবনিয়া খুইল্লা মিয়ার পুত্র সামসুল আলম (৩২), শামলাপুর পুরানপাড়া আবুল হাসিমের পুত্র সিরাজ (৩৬), শাহপরীরদ্বীপ কুনাপাড়া কবির আহমদের পুত্র মোঃ রফিক (৩৩), মিনাবাজার বাচা মিয়ার পুত্র কুতুব উদ্দিন (২৭), মহেশখালীয়াপাড়া মৌঃ নুরুল ইসলামের পুত্র হাবিব উল্লাহ (৩২), ছৈয়দ হোছনের পুত্র সাদ্দাম হোসেন (৩৪), পল্লানপাড়া আবদুল গফুরের পুত্র ইয়াজ উদ্দিন (৪০), শাহপরীরদ্বীপ ক্যাম্পপাড়া মোঃ কাসেমের পুত্র আবুল কালাম (৩৪), মখলেছর রহমানের পুত্র আবদুস শুকুর (৪০), মন্ডলপাড়া লাল মিয়ার পুত্র আবদুল জলিল (৩৯), ডেইলপাড়া বশির আহমদের পুত্র জুবাইর (৩৩), রুহুল্লারডেপা ফজল আহমদের পুত্র মোঃ আলম (৩৬)।
মিয়ানমারের আকিয়াব (সিটওয়ে) কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী এসব মানুষ আন্তর্জাতিক রেডক্রসের মাধ্যমে তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে প্রেরিত চিঠিতে বিদেশের জেলখানায় বিগত ২ বছরেরও অধিক সময়কাল ধরে অসহ্য কষ্টে দিনাতিপাত করছে বলে উল্লেখ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মূক্ত করে আনার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়াপাড়ার মাওঃ নূরুল ইসলাম জানান- মিয়ানমারের আকিয়াব জেলে আটক তার পুত্র হাবিব উল্লাহসহ আরও অনেককে ছাড়িয়ে আনতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে।



















