টেকনাফে দেড় লাখ ইয়াবাসহ পাচারকারী আটক

fec-image

কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার থেকে নৌকায় করে জেলে ছদ্মবেশে ও সাঁতরিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় পৃথক অভিযানে দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি। বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিজিবির জওয়ানরা নাফ নদী থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ একজন পাচারকারীকেও আটক করে।

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আটককৃত পাচারকারী হলেন মিয়ানমারের মংডুর মাংগালা গ্রামের মৃত ইব্রাহিমের পুত্র মোহাম্মদ হাকিম আলী (৫৪)। এ ঘটনায় টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের উলুসামরি এলাকার কালা মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ জালাল ওরফে লাল জালাল (২৫)–সহ আরও ২–৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা রুজু করেছে বিজিবি।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার গভীর রাতে মিয়ানমার থেকে দুইজনকে নাফ নদী সাঁতরে আসতে দেখে টহলরত বিজিবি সদস্যরা নৌযান নিয়ে অভিযান চালান। এসময় তারা সাঁতরে মিয়ানমার সীমান্ত পার হয়ে এদেশে প্রবেশ করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের হাতে থাকা দুটি পলিথিনের প্যাকেট পানিতে ভাসিয়ে দিয়ে ডুব সাঁতরে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা পানিতে ভাসমান পলিথিন ব্যাগদ্বয় উদ্ধার করে সেগুলোতে অভিনব পদ্ধতিতে মোড়ানো ৫৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে।

এদিকে, ২৪ নভেম্বর গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করেন। ভোর ৬টার দিকে দমদমিয়া ও বড়ইতলীর বিপরীতে নাফ নদীর গভীর অংশ দিয়ে জেলের ছদ্মবেশে একটি নৌকা মিয়ানমার থেকে এদেশের দিকে অগ্রসর হলে কৌশলগত অবস্থানে থাকা ২ বিজিবির নৌ-টহল দল নৌকাটি ঘিরে ফেলে। তল্লাশিতে নৌকাটি থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি অভিযানে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজন পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। এসময় নৌকায় থাকা আরও তিন মাদককারবারি সাঁতরে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি টেকনাফ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সব ধরনের অপরাধ দমনে পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। মাদক ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) বদ্ধপরিকর।

তিনি আরও জানান, আটককৃত আসামি ও জব্দকৃত মাদকদ্রব্য যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে নাফ নদী ও এর তীরবর্তী এলাকায় আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, মাদক চোরাচালান ও মানব পাচারের যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, তা ভেঙে দিয়ে টেকনাফকে সুরক্ষিত করতে ২ বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৪৪ ঘণ্টায় মোট ৬টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) ৪ লাখ ৪১ হাজার ৯২০ পিস ইয়াবা এবং ১০ জন পাচারকারীকে আইনের হাতে সোপর্দ করেছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইয়াবা, কক্সবাজার, টেকনাফ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন