টেকনাফ স্থলবন্দরে ব্যবসায়ীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে
উপজেলা প্রতিনিধি, টেকনাফ :
কক্সবাজার টেকনাফ স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছে সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, আমদানী-রপ্তানিকারক সমিতি ও ট্রাক মালিক-শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার সকাল থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়।
গত সোমবার ইয়াবা বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা পৃথক পৃথক অভিযানে বিজিবির সদস্যরা ২৪০টি ইয়াবাসহ ৫ জনকে আটক করেছে। এর মধ্যে সোমবার দুপুর ১টায় টেকনাফের জালিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৬টি ইয়াবাসহ মো. জিয়াবুল (৩১) ও ৪৭টি ইয়াবাসহ মো. আয়াজ (২৯) নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটককৃতদের টেকনাফ থানায় সোপর্দ করে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এদিকে আটকদের মধ্যে দুই জনকে টেকনাফ স্থল বন্দরের ব্যবসায়ী দাবি করে এ ধর্মঘট ডাক দেয় সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, আমদানী-রপ্তানিকারক সমিতি ও ট্রাক মালিক-শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার রাত ১১টায় সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি ও টেকনাফ ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি দিদার হোসেন। এসময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ হাশেম সিআইপি, সাধারণ সম্পাদক এহেতেশামুল হক বাহাদুর, সদস্য শওকত আলী, আব্দুল জব্বার, আকতার ফারুক, যদু চন্দ্র, মোঃ কামরুল ইসলাম, আমদানী-রপ্তানিকারক সমিতির মোঃ শফিউল্লাহ, আব্দুস সালাম, মাও. আব্দুল লতিফ, মোঃ রাসেল। এছাড়া ট্রাক মালিক-শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, আবু তাহের ও মোঃ ইলিয়াছ এ কর্মসূচির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।
টেকনাফ সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি দিদারুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর জানিয়েছেন, টেকনাফ সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন কোষাধ্যক্ষ মো. আয়াস ও সদস্য জিয়াবুল হোসেন সিআইপিকে বিজিবি সদস্যরা রোববার রাত ২টার দিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সোমবার দুই সহোদর ব্যবসায়ীকে আলাদা ৪৬টি ও ৪৭টি ইয়াবা দিয়ে থানায় সোপর্দ করে থানায় মামলা করা হয়।
তারা আরো দাবি করে, এর আগে সোমবার দুপুরে তাদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় বিজিবি।এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরের সমস্ত ব্যবসায়ী কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়। এ সময় তারা বিজিবির দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আটককৃতদের মুক্তি এবং এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। তাদের সাথে বন্দর সংশ্লিষ্ট আরো ৩টি সংগঠন রয়েছেন বলেও জানান।
এদিকে টেকনাফ ৪২ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দরের ধর্মঘটের বিষয়টি তিনি জানেন না। কারণ স্থল বন্দরে কি হবে না হবে সেটি বিজিবির দেখার বিষয় নয়। বিজিবির কাজ হচ্ছে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধসহ সীমান্তের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা। এরই অংশ হিসেবে চোরাকারবারিরা যতই শক্তিশালী হোক তাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনের আওতায় নিয়ে আসা। বিজিবি তাই করেছে। সে ক্ষেত্রে কারো ছাড় নেই।



















