ত্রিপুরী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর প্রাচীন ভাষা ‘ককবরক’ দিবস পালিত


ভারতের ত্রিপুরায় ত্রিপুরী ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর প্রাচীন ভাষা ‘ককবরক’ ৪৬তম দিবস পালিত হয়েছে। প্রতি বছর ১৯ জানুয়ারি ত্রিপুরায় ককবরক দিবস পালিত হয়। এই দিনটি ত্রিপুরা ভাষা দিবস নামেও পরিচিত। ১৯৭৯ সালে ত্রিপুরা সরকার ককবরক ভাষাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার স্মরণে দিবসটি উদযাপন করে থাকে।
চলতি বছর ককবরক দিবস পালনের ৪৬ তম বর্ষ পূর্ণ হয়েছে। এই দিবসের উদ্দেশ্য ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর হাজার বছরের প্রাচীন ভাষাটির সংরক্ষণ ও প্রসার ঘটানো।
ককবরক, যা ত্রিপুরা বা টিপরাকোক নামেও পরিচিত, ত্রিপুরার ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা। এটি তিব্বতি-বর্মণ ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান ভাষা হিসেবে পরিচিত। ভাষাটির বক্তাদের ‘বোরোক’ বলা হয়, আর ‘কক’ শব্দের অর্থ ভাষা।
ত্রিপুরা রাজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলেও ককবরক ভাষার ব্যবহার রয়েছে। দেববর্মা, রিয়াং, জামাতিয়া, কালাই, নোয়াতিয়া, রূপিণী, মুরাসিং ও উচোইসহ বিভিন্ন ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন। সম্মিলিতভাবে তারা নিজেদের ‘ত্রিপুরী’ হিসেবে পরিচয় দেন।
দিবসটি উপলক্ষে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক দল কংগ্রেস। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দেওয়া এক বার্তায় দলটি জানায়, এই দিবস ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মধ্যে ঐক্য ও গর্ববোধ জাগ্রত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছে।
কংগ্রেস এক বিবৃতিতে জানায়, ককবরক দিবস উপলক্ষে তারা ত্রিপুরার জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছে এবং এই দিনটি যেন রাজ্যের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান ও ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করে—সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করে দলটি।
এদিকে কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ককবরক দিবসে ত্রিপুরার জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ককবরক একটি প্রাচীন ভাষা, যা দীর্ঘকাল ধরে ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
উৎস : দ্য মোরং এক্সপ্রেস (১৯ জানুয়ারি ২০২৬)
















