নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ


বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম বরইতলী এলাকায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহৃত ছাত্রির নাম রেশমী আক্তার(১০)। তার পিতার নাম নূর মোহাম্মদ। মৃত রেশমি আক্তার বড়ইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
রেশমিকে অপহরণের ২০ ঘন্টা পর শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় একটি পাহাড়ি ঝিরি থেকে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরই মাঝে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, রেশমি আক্তার গত শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ১টি বাছুর সহ ৫টি গরু নিয়ে বাড়ির পাশের একটি খেলার মাঠে চরাতে যায়। সাথে ছিলো তার আরো এক বোন মায়মুনা আক্তার। দু’বোন বেশ ক’ঘন্টা এখানে গরু চরায়। মায়মুনা আক্তার জুমার নামাজের পর পাশের অপর একটি খেলার মাঠে খেলতে গেলে রেশমি একা এ গরু গুলো চরাতে থাকে। পরে এসে মায়মুনা আক্তার তার বোনকে আর খুঁজে পায়নি। পরদিন শনিবার দুপুরের দিকে তাকে পার্শবর্তী বড়ইতলীর শুকনা ঝিরি থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের পিতা নূর মোহাম্দ জানান, তার মেয়ের প্রতি ক্লাসেরই রোল ছিলো এক। এ বছরও তাই। আর ছোট মেয়ে মায়মুনা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রি। তার রোলও এক। সে পেশায় নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষক। আর ইমামতি করে একটি মসজিদে। ঘটনার দিন শুক্রবার সকাল ৯টায় তার দু’ মেয়েকে গরু নিয়ে পাশের খেলার মাঠে চরাতে বলেন তিনি। কিন্তু তার ছোট মেয়েটি বিকেলে বাড়ি ফিরে আসলেও রেশমি আক্তার আসেনি। অনেক খুঁজাখুঁজির পর তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস তার মেয়েকে র্ধষণ করে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় অপর একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানান, মেয়েটিকে প্রথমে অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে নির্জন বড়ইতলী শ্বশ্মানের পাশে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় হয়তো সে চিৎকার করায় তাকে কিছু একটা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে ধর্ষক। হত্যার পর লাশটি টেনে হেচঁড়ে বেশ দূরে শুকনো ঝিরির একটি চিপায় তার লাশ দেখতে পায় তারা। তবে তার পরনের প্যান্টটি পাওয়া যায় অন্য স্থানে-পাহাড়ের একটি ঢালুতে। আর এ কারণে স্থানীয় আনসার ভিডিপি সদস্যরা কৌশল খাটিঁয়ে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মো: রাশেল নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে সপর্দ করে। তারা আরো বলেন, ধর্ষনের সময় ব্যবহৃত রাশেলের পরণের লুঙ্গিটিও উদ্ধার করে পুলিশে দেয়া হয়। তবে রাশেলের বক্তব্য নিতে চেষ্টা করলেও পুলিশী হেফাজতে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
লাশ উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া এসআই এনামুল হক জানান, আসলে ধর্ষনের পরে মেয়েটিকে মারা হয়েছে কিনা তিনি এ মূর্হুতে বলতে পারবেন না। কারণ এটি ডাক্তারের পরীক্ষা দরকার।
থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, মেয়েটি পাওয়া গেছে মৃত। আর মাথায়, কপালে ও নাকে আঘাত আছে। খুনি হয়তো উঠতি বয়সী। বাকীটা তদন্ত করে জানা যাবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত সপ্তাহে অত্র নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়া ছড়ি এলাকা থেকে একটি বিছিন্ন হাত ও এক নারীর খণ্ডিত লাশ পাওয়া যায়। এর বেশ আগে বাইশারীতে দু’উপজাতী নেতাসহ পুরো পাহাড়ি এলাকায় বেশ ক’টি খুন হয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে মানুষ চরম আতংকে রয়েছেন।

















