পাহাড়ি ফল ও ফসলের উৎপাদন ও বাজারজাতে ফের সহযোগিতার আশ্বাস

fec-image

প্রতিবারের মতো এবারেও পাহাড়ি ফল ও ফসলের উৎপাদন ও বাজারজাত সহজীকরণে সরকারি উদ্যোগ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। পাহাড়ি কৃষির সাথে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, রাজধানীতে পাহাড়ি ফলের হাব স্থাপনসহ বিগত দিনে এরকম বহু আশ্বাস পেয়েছে। তবে এসব আশ্বাসের বাস্তবায়ন খুব কমই দেখতে পায় তারা।

২৭ জুন শনিবার সকালে ঢাকায় পাহাড়ি ফল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেছেন, পাহাড়ে উৎপাদিত পণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণে আমরা কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় এ বিষয়ে আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী এজেন্ডা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে মিল রেখে এর একটি কাঠামো বাস্তবায়নে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করবো। পার্বত্য অঞ্চলে উৎপাদিত ফল ও ফসল উৎপাদনের কৃতিত্ব মূলত এই অঞ্চলের কৃষকদের। এই অঞ্চলে কৃষির উৎপাদন জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।

তিনি তাঁর বক্তব্যে পাহাড়ি কৃষি উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কৃষক ভাইবোনকে অভিনন্দন জানান। একই সাথে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, পাহাড়ে বৈচিত্রময় ফল ফসলাদি উৎপাদনে তাদের বিশেষ অবদান রয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজধানীর বেইলি রোডের পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পাহাড়ি ফল মেলা শুরু হয়েছে। ‘পাহাড়ি ফলের ঘ্রাণ, বৈচিত্র্যময় প্রাণ’-প্রতিপাদ্যে তিন দিনব্যাপী এই মেলার সূচনা হয়েছে শনিবার থেকে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত মেলাটি চলবে সোমবার পর্যন্ত।

সকাল ১০টায় মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

পাহাড়ের বুক থেকে বয়ে আসা অর্গানিক ফলের সুমিষ্ট স্বাদ, অনন্য কৃষিজ ঐতিহ্য এবং বৈচিত্র্যময় পাহাড়ি সংস্কৃতিকে সমতলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন।

এবারের মেলায় বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলার মোট ৩০টি স্টল রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে সাজানো হয়েছে পাহাড়ের সুস্বাদু মৌসুমী ফল- আম, আনারস, কাঁঠাল, কলা থেকে শুরু করে দুর্লভ বুনো রক্তফল (রসকো), রাম্বুটান ও বুনো বেলের মতো বাহারি ফলের সমাহার।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন