পাহাড়ের আকর্ষণ ‘কালাচাঁন’


পবিত্র ঈদুল আজহায় পাহাড়ের অনত্যম আকর্ষণ ‘কালাচাঁন’। অবারিত সবুজ বিস্তৃর্ণ পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সন্ধান মিলছে বিশাল আকৃতির ‘কালাচাঁন’ নামক ষাঁড়ের।
১১ ফুট দৈর্ঘ্য ৫ ফুট উচ্চতার সাড়ে ১৭ মণ ওজনের এ গরুটিকে আসন্ন কোরবানির ঈদে বিক্রি করা হবে। গরুর মালিক এর দাম হাঁকাচ্ছেন ৫ লাখ টাকা। স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ের মাটিতে সবুজ ঘাস লতাপাতা খেয়ে বেড়ে উঠা এটিই অন্যতম বড় গরু হিসেবে বিবেচিত।
সরেজমিনে জানা যায়, ভারত সীমান্ত ঘেঁষা মাটিরাঙ্গার তাইন্দং ইউনিয়নের দক্ষিণ আচালং এলাকায় নিতান্তই শখের বশে ৩ বছর ধরে পরম যত্নে ‘কালাচাঁনকে’ লালন-পালন করছেন জামাল হোসেন বশির। তার খামারে কালাচাঁন ছাড়াও বিভিন্ন জাতের আরো ১২টি গরু রয়েছে। সফল উদ্যোক্তা বশিরের গরুর খামার ছাড়াও তার নিজস্ব ৪ একর জমিতে মাছ চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন তিনি।
জামাল হোসেন বশির জানান,পার্শ্ববর্তী তবলছড়ি ইউনিয়নের শুকনাছড়ি থেকে আনা ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় গরুটি দেশীয় পদ্ধতিতে লালন পালন করেন তিনি। ভুট্টার গুঁড়া, আতব চাল, নিজের জমিতে উৎপাদিত কাঁচা ঘাস সহ দেশীয় খাবার খাওয়ানো হয় তাকে।
শান্ত স্বভাবের ‘কালাচাঁন’ কে নাম ধরে ডাক দিলেই যেন সাড়া দেয় সে। শরীর কালো বর্ণের হওয়ায় আদর করে ‘কালাচাঁন’ নাম রাখা হয়েছে জানিয়ে মালিক বশির বলেন, নিজের সন্তানের মতো তাকে লালন পালন করেছি। খাবার দিতে দেরি হলে সে অভিমান করতো। গরুটি ৫ লাখ টাকা হলে বিক্রি করা হবে। যিনি কিনবেন তার নিজ খরচে ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানিয়ে বশির আরো বলেন, গরুটি কোন হাটে তোলা হবে না বাড়ি থেকেই বিক্রি করবেন বলে তিনি জানান।
এ দিকে বিশাল আকৃতির গরুটি দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিনই ভিড় করছে মানুষ। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে এমন গরু দেখতে পেয়ে হতবাক অনেক দর্শনার্থী।
জামাল হোসেন বশির একজন সফল উদ্যোক্তা জানিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুমেন চাকমা বলেন, তার খামারের প্রতিটি গরুই সুষম খাদ্য ও সুন্দর পরিবেশে বড় হচ্ছে। তাছাড়া সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করেছেন গরুটিকে। গরুটির বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। সুস্থ রাখার জন্য খাবার-দাবারসহ নিয়মিত গোসল ও তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।

















