রামমূর্তি স্থাপন ও নির্মাণ কাজ স্থগিত ঘোষণার প্রতিবাদ সর্ব মিত্র’র

fec-image

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত বৃহত্তম রামমূর্তি স্থাপন ও নির্মাণের কাজ স্থগিত ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছেন ডাকসু কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, ‘গাইবান্ধায় সনাতন ধর্মের অনুসারীদের ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের মূর্তি নির্মাণে বাঁধা এবং ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করা সরাসরি ধর্ম অবমাননার সামিল।’

নিম্নে সর্বমিত্র’র পেইসবুক পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘বাংলাদেশকে বরাবরই আমি একটি ফুলের বাগানের সাথে তুলনা করি। হরেক রকমের ফুলের বাগান- গাঁদা , গোলাপ, গন্ধরাজ, বেলি, জবা… হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান। একটা দেশ, কত বৈচিত্রময়! মসজিদে আজান হবে, মন্দিরে পূজা, প্যাগডায় সূত্র পাঠ, গীর্জায় প্রার্থনা হবে। স্ব স্ব ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। গাইবান্ধায় সনাতন ধর্মের অনুসারীদের ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের মূর্তি নির্মাণে বাঁধা এবং ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করা সরাসরি ধর্ম অবমাননার সামিল। এমন বাংলাদেশ তো আমরা চাই না, যেখানে ধর্ম নিয়ে দাঙ্গা হবে, হামলা হবে, অন্য ধর্মের ইশ্বরের উপর জুতা নিক্ষেপ হবে। ভাবুন, আপনি আপনার সৃষ্টিকর্তার অপমান সহ্য করতে পারেন না, এ অপমান আপনাকে সরাসরি আঘাত করে। একই কাজ যদি আপনি অন্য ধর্মের অনুসারীদের উপর করেন, তারও একই আঘাত লাগে। এ বাগানের ফুলগুলো স্ব স্ব মহিমায় বিকাশিত হোক! দেশ ও মানুষের মধ্যে শান্তি বিরাজ করুক।’

উল্লেখ্য, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত ‘বৃহত্তম রামমূর্তি’ স্থাপন ও নির্মাণের কাজ আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছে রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমিটি। বিপুল পরিমাণ অর্থ ও অর্থের উৎস নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠায় এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১১ জুন বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, রামমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের প্রশ্ন, মতামত ও প্রতিবাদ উঠে এসেছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এই মন্দিরের নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল কিংবা কোনও পক্ষের চাপের মুখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

মন্দির কমিটির নেতারা বলেন, আমরা বাঙালি। সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তবে মন্দিরের নিয়মিত ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

এদিকে, পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি’ অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইমাম-উলামা পরিষদ। বিকালে উপজেলা মডেল মসজিদের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা মূর্তি নির্মাণ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট সকল উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানান।

১০ জুন উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে এক সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কাওছার মো. নজরুল ইসলাম (লেবু)। সমাবেশে বক্তারা গুজব, উসকানি ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থেকে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন