পেকুয়ার রাজাখালীতে চোরের ভয়ে প্রান্তিক লবণ চাষীরা রাত জেগে পাহারা
পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়ার রাজাখালীতে লবন মাঠে চোরের উপদ্রব আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেযেছে। ফলে, রাত জেগে পাহারা বসিয়েও দূর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলা-মারধর ও মালামাল ছিনিয়ে নেওযার ঘটনা থেকে রেহাই পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের পালাকাটা এলাকার নিরীহ লবণ চাষীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে একই ইউনিয়নের বদিউদ্দিন পাড়া ও বকশিয়াঘোনা এলাকার চিহ্নিত দূর্বৃত্তরা মাসোহারার দাবী করে আসছিল।
অসহায় লবণ চাষীরা চাঁদাবাজদের এ দাবী পূরণে অপারগতা জানানোয় গত কয়েক মাস ধরে চিহ্নিত দূর্বৃত্তরা প্রতিদিন রাতের আঁধারে রাজাখালীর দক্ষিনাংশের লবন মাঠগুলোতে সশস্ত্র হানা দিয়ে আসছে। হানাকালে প্রকাশ্য আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতংক ছড়িয়ে দূর্বৃত্তরা মাঠের প্রজেক্ট ঘরে অবস্থানকারী নিরহ চাষীদের বেদড়ক মারধর ও সর্বস্ব লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভুগীরা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। খবর পেয়ে গতকাল ২ ফেব্রুয়ারী সোমবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
সাংবাদিকের উপস্থিতি ও পরিচয় পেয়ে শত শত অসহায় নিরহ লবন চাষীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইতিমধ্যে রাজাখালীর বদিউদ্দিনপাড়া ও বকশিয়াঘোনা এলাকার চিহ্নিত দূর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে ওই এলাকার লবন মাঠে হানা দিয়ে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতংক ছড়ান। পরে, প্রজেক্ট ঘরে অবস্থানরত লবন চাষষীদের বেদড়ক মারধর শেষে তাদের সর্বস্বঃ ছিনিয়ে নিয়ে যান। চলে যাওয়ার সময় ফের প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটানো ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে থানা-পুলিশ বা আদালতে অভিযোগ দিলে পরিণতি খারাপ করারও হুমকি ধমকি দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এরিমধ্যে গত কয়েকদিন আগে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দাবী পূরণ না করায় চিহ্নিত দূর্বৃত্তরা স্থানীয় ডাক্তার এহেসানের লবন প্রজেক্টে হানা দেয়। এসময় তার চাষাদের বেদম মারধর করা ছাড়াও পানির সেচ মেশিন লুঠ করে নিয়ে যায়। দূর্বৃত্তরা আরেকদিন সেখানে হানা দিয়ে স্থানীয় সিরাজুল হকের লবন প্রজেক্টের ২০/৩০হাজার টাকা মূল্যের পলিথিন চুরি করে নিয়ে যায়। কিছুদিন আগে একাধিক লবন মাঠের প্রজেক্ট ঘরগুলোয় হানা দিয়ে সেখানে অবস্থানরত ১০/১৫জন নিরহ লবন চাষীদের উপর চরম অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের সবার ব্যবহৃত মোবাইল, টর্চলাইট ও নগদ টাকা-পয়সা সহ সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে যান।
এনিয়ে ঘটনায় জড়িতদের গডফাদার হিসাবে পরিচিতদের অবহিত করে প্রতিকার চাইলেও উল্টো বকাঝকা ও চালানো হয় নির্যাতনের খড়গ। গ্রাম পরিষদে অভিযোগ দিলেও অভিযুক্তরা গ্রামাদালতের নোটিশ শালিষের প্রতিও দেখান চরম অবজ্ঞা ও উদ্ধত্য। এমনকি থানা পুলিশকে জানালেও জড়িতদের সাথে পুলিশের গোপন সম্পর্ক্য থাকায় কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়না বলেও অভিযোগ করেন লবন চাষীরা।
রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় থানা-পুলিশকে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বারবার অনুরোধ জানালেও থানা পুলিশ রহস্যজনক ভুমিকা পালন করেন। পেকুয়া থানার ওসি মোঃ আবদুর রকিব এনিয়ে কোন অভিযোগ পাননি বলে মন্তব্য করে বলেন, তবে খোঁজ-খবর নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানূগ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

















