প্রধানমন্ত্রীর সু-নজরে স্বেচ্ছায় থানা হাজতে আশ্রয় নেয়া খাগড়াছড়িরর আ.লীগ নেতা জাবেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পার্বত্যনিউজ :

অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর সু-নজরে স্বেচ্ছায় থানা হাজতে আশ্রয় নেয়া খাগড়াছড়ি পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো: জাবেদ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী খাগড়াছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জাবেদ হোসেনকে খাগড়াছড়ি ফিরে যাবার নির্দেশ দিয়েছে এবং কোন সমস্যা হলে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ সাইফুজ্জামান শিখড়কে দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ সাইফুজ্জামান শিখড় নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন ।

মহাজোট সকারের শেষ সময়ে এসে খাগড়াছড়ির আওয়ামী শিবিরে শীর্ষ নেতৃত্বের ভালোলাগায় চীর ধরতে শুরু করে।  গত ৬ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি টাউন হলে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে দলের গৃহদাহ প্রকাশ্য রুপ লাভ করে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে জেলা থেকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের ক্ষোভের বহির্প্রকাশ ঘটছে নানাভাবে। আর এসব অসন্তোষ খাগড়াছড়িকে ছাড়িয়ে উত্তাপ ছড়ায় দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন পর্যন্ত।
 
গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঢাকায় গণভবনে অনুষ্ঠিত সভায় তৃণমূল নেতারা জেলার দুই শীর্ষ নেতার সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের সাংগঠনিক দুরাবস্থা এবং শীর্ষ নেতাদের সুবিধাবাদিতার বিরুদ্ধে। তাদের এসব বক্তব্য শোনে প্রধানমন্ত্রী নিজেই তিরস্কার করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এবং  সাধারণ সম্পাদক মো: জাহেদুল আলমকে। সেই সাথে গত দুই সপ্তাহ ধরে নিজ দলের নেতাদের হামলার ভয়ে সেচ্ছায় থানা হাজতে আশ্রয় নেয়া খাগড়াছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জাবেদ হোসেন সুনজরে পড়েন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর।

আর এসকল বিষয় নিয়ে সভায় অংশগ্রহণকারী মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চাকমা, পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাথ দেব এবং মহালছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রতন শীল‘র সাথে কতা হলে তারা জানান, খাগড়াছড়ি জেলা, উপজেলা, ১ম শ্রেনীর পৌরসভা ও থানা কমিটির ২২ জন সভাপতি-সম্পাদকদের সাথে দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টাব্যাপী বৈঠকের শুরুতে ছাপানো প্রশ্নমালায় দলের সাংগঠনিক অবস্থা, আগামী নির্বাচনে করণীয়, সম্ভাব্য যোগ্য তিন প্রার্থীর নাম এবং প্রার্থীদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো যাচাই করা হয়।

সভায় উপস্থিত এসব নেতারা জানান, দলী প্রধান সভায় অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো: জাবেদ হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিহানু চৌধুরী’র নাম দেখে প্রশ্ন তোলেন। এসময় তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহেদুল আলমের কাছে তালিকার দ্বৈততা নিয়ে জানতেও চান। এবং প্রধানমন্ত্রী মো: জাবেদ হোসেনকে তার বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য বলেন।

মো: জাবেদ হোসেন টেলিফোনে জানান, আমি খাগড়াছড়িতে দলের সর্বশেষ অবস্থার পাশাপাশি সুবিধাভোগী একটি প্রভাবশালী পরিবারের স্বেচ্ছাচারিতা, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে টেন্ডারবাজি এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরি। জাবেদ আরও জানান, এছাড়া ৬ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি টাউন হলে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে অসন্তুষ্ট হয়ে তার ওপর হামলা, প্রাণভয়ে থানায় আশ্রয় নেয়া এবং খাগড়াছড়িতে নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। এরপরই প্রধানমন্ত্রী খাগড়াছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জাবেদ হোসেনকে খাগড়াছড়ি ফিরে যাবার নির্দেশ দেন।

সভায় এক বক্তা খাগড়াছড়ির পাহাড়ি-বাঙালির সম্প্রীতি অটুট রাখতে পারবে এমন প্রার্থী দেওয়ার  জন্য বলেন। এসময় সভায় অংশ নেয়া কয়েকজন নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক নেতা খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র মো: রফিকুল আলমের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন