বান্দরবানে জোরপূর্বক টোল আদায়ের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

fec-image

বান্দরবান সদর উপজেলার জামছড়ি ইউনিয়নের বাঘমারা বাজার ফান্ডের ইজারাদার কর্তৃক জোরপূর্বকভাবে টোল-ট্যাক্স আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বান্দরবান জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, জেলা পরিষদ নিয়মের বাইরে গিয়ে সড়কপথে মালামাল পরিবহনকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যানবাহন থেকে প্রতিদিন জোর পূর্বক চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে।

জেলা পরিষদ সূত্র বলছে, চলতি বছরে ৩০ জুন ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাঘমারা বাজার ফান্ডের ইজারাদার নিয়োগ দেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই। পহেলা জুলাই থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরে জন্য মেসার্স মিল্টন ট্রেডার্স স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ চৌধুরীর ইজারাদার হিসেবে নিয়োগ পান।

ইজারা নিয়োগের শর্তনুযায়ী সপ্তাহের দুইবার টোল ট্যাক্স আদায় করতে বলা হয়েছে। কিন্তু দুইবার টোল-ট্যাক্স উল্লেখ করা থাকলেও দলীয় কর্মীদের দিয়ে প্রতিদিন বেপরোয়াভাবে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

বাঘামারা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘ বছর ধরে পার্বত্য জেলা পরিষদ অধীনে বাজার ফান্ডে টোল টেক্স ইজারা নিয়োগ দেয়া হয়। স্থানীয়রা বিগত ২৫-৩০ বছর পর্যন্ত বান্দরবানে মালামাল নিতে-আনতে কোন ধরনের ট্যাক্স দিতে হয় নাই। শুধু সাপ্তাহিক বাজার দিনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ইজারা দিতে হয়।

গত শুক্রবার থেকে টোল-ট্যাক্স এর নামে বান্দরবান জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও তার সঙ্গীরা জোর পূর্বক ট্যাক্স আদায়ের নামে প্রতিটি গাড়ী থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে। যা আইনের বাইরে গিয়ে অনিয়মের আশ্রয় নিচ্ছেন।

এদিকে আজ সোমবার দুপুরে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে বাঘমারা এলাকার স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের উদ্যোগে জোরপূর্বকভাবে টোল ট্যাক্স আদায়ের এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন শেষে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, যদি জেলা পরিষদ থেকে বাজার ইজারা দেয়া হয় তাহলে বাজারে বিক্রি করা মালামাল থেকে টেক্স উত্তোলন করবে। কিন্তু তা না করে বাজারের উপর দিয়ে মালামাল বহনকারী গাড়ী থেকে (যা বাজারে বিক্রি বা নামানো হয় না) এমনকি ছোট পরিবহন থেকেও বেপরোয়া ও অতিরিক্ত হারে টোল আদায়ের নামে দলীয় লোকজন নিয়ে চাঁদাবাজীর মত জোরপূর্বক টোল-ট্যাক্স আদায় করছে।

যা সম্পূর্ণভাবে অনৈতিক, আইনবিরোধী ও খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এ ধরনের চাঁদাবাজী বন্ধ না হলে এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণ মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই দ্রুত এ ধরনের চাঁদাবাজী বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের নিকট আহ্বান জানান বক্তারা।

বাগমারা বাজারের ব্যবসায়ী মো. আবুল কাশেম বলেন, আগের নিয়ম ছিল শুধু বাজার দিনে বিক্রেতাদের কাছ থেকে হাসিল তোলা। আর এখন বিএনপি নেতারা জোড়পূর্বক ভাবে সড়কপথ,নদীর পথ সবদিক দিয়ে প্রতিদিন চাঁদা তুলছে। আমরা এলাকার জনসাধারণ বিরক্তি হয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই কাছে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়ে এসেছি। যদি আগের নিয়মেই টোল-ট্যাক্স আদায় করা না হয় তাহলে সমস্যা সৃষ্টি হবে।

জামছড়ি চেয়ারম্যান ক্যসিংশৈ মারমা বলেন, নিয়মের বাইরে চাঁদা তোলার বিষয়টি শুনেছি। আর সেটি জেলা পরিষদ অধীনে পড়েছে।

চাঁদা তোলার অভিযোগের বিষয়ে ইজারাদার ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ চৌধুরী বলেন, জেলা পরিষদ থেকে আমরা বাঘমারা বাজার ইজারা নিয়েছি। আমাদের সেখানকার ছেলেরা যারা ইজারা তুলছে সেটা জেলা পরিষদ অধীনে তুলছি, এর বাইরে কোন ইজারা তুলছি না বলে অস্বীকার করেন।

সপ্তাহে দুবার ইজারা তোলার বিষয়ে যুদবল নেতা বলেন, যেহেতু ইজারা ডাক পেয়েছি সেহেতু প্রতিদিন ছেলেরা ইজারা তুলবে, সেখানে কোন সপ্তাহের দুবার লাগে না আর হোক যেকোন পথ। আর কিছুক্ষণ আগে চেয়ারম্যান ফোন দিয়ে বলেছেন, বাঘমারা ইজারা বাতিল করা হয়েছে। আমরা আগামীকাল চেয়ারম্যান সাথে বৈঠক করে ইজারা টাকা ফেরত চাইব।

এ বিষয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই বলেন, নিয়মের বাইরে চাঁদা তোলার বিষয়টি শুনেছি। জেলা পরিষদ থেকে যে ইজারা ডাক দেয়া হয়েছে সেটি শুধু বাজার ফান্ড ভিতর সীমাবদ্ধ থাকবে। বাজার ফান্ডের বাইরে যেসব সড়ক পথ রয়েছে সেটা তোলার কোন নিয়ম নাই। ঘটনা শোনার পর আমরা ইজারা বাতিল করে সেই আগের নিয়মে করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বান্দরবান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন