বান্দরবানে র‍্যাম পাম্প স্থাপনে বদলাবে দুর্গম অঞ্চলের পানির চিত্র

fec-image

যুগযুগ ধরে চলে আসছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পানির সংকটের চিত্র। একাধিকবার নলকূপ বা ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হলেও তাতেও মেলেনি পানি সংকটের সুরাহা। এ যেন পানির জন্য প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে আসছে দুর্গম অঞ্চলের মানুষ। এবার পানি সংকট নিরসনের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নিয়েছে বিকল্প ও আধুনিক প্রযুক্তি। যে প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর হবে পানি সংকট আর এতে হতে পারে দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জন্য টেকসই ও কার্যকর সমাধান।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, দুর্গম অঞ্চলগুলোতে র‍্যাম পাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে পাম্পের মাধ্যমে পানি সংকট দূর হবে। এই পাম্প পরিচালনা করতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে না। যা প্রকৃতির মাধ্যমে ঝিড়ি বা ঝর্ণা থেকে মুহূর্তেই পানি তুলে এনে গ্রামে গ্রামে সুপেয় পানি নিশ্চিত করবে।

র‍্যাম পাম্প সম্পূর্ণ বিদ্যুৎবিহীনভাবে কাজ করতে সক্ষম। যা পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচের পানিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপরের বসতিগুলোতে পৌঁছে দিতে পারে। ফলে বিদ্যুৎ সংকটে ভোগা দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি হতে যাচ্ছে এক টেকসই ও কার্যকর সমাধান।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বান্দরবানের চিম্বুক, আলীকদম উপজেলার দুর্গম জনগোষ্ঠীর বসতি এবং থানচি উপজেলার প্রত্যন্ত পাড়াগুলোতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী মাসে প্রকল্প পরিচালকসহ একটি বিশেষজ্ঞ টিম সরেজমিনে স্থান পরিদর্শন করবেন।

দুর্গম অঞ্চলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, র‍্যাম পাম্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বহু বছরের পানির দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং দুর্গম পাহাড়ে গড়ে উঠবে স্বস্তির নতুন অধ্যায়। এই উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ে পানি সংকট নিরসন হবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে জানিয়েছেন, পাহাড়ি এলাকায় পানির সংকট একটি দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল সমস্যা। বিদ্যুৎ সুবিধার অভাবে পাম্পগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। এই বাস্তবতায় আমরা র‍্যাম পাম্প প্রযুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি, যা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎনির্ভরতা ছাড়াই পানি সরবরাহ করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মৌলিক চাহিদা ও সুপেয় পানির প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এটি শুধু পানির সংকট দূর করবে না, বরং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা বিশ্বাস করেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন