বান্দরবানে সওদাগরের এক কর্মচারীর গায়ে বন বিভাগের সরকারি ড্রেস : সমালোচনা ঝড়

fec-image

বান্দরবানের রুমায় গাছের ডিপোতে এক কেরানী গায়ে সরকারি বন বিভাগের পোশাক পড়ে তদারকি করার একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। এই নিয়ে উপজেলা ও জেলা জুড়ে বন বিভাগের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা ঝড় বইছে। গতকাল রাতে ড্রেস পড়ার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, একটি গাছের ডিপোতে বন বিভাগের পোশাক পড়ে আছেন কেরানী আবুল কালাম আজাদ (উজ্জল)। বন বিভাগের ড্রেস পড়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হাতে নিয়ে গাছগুলোকে তদারকি করতে দেখা যায়। সে নিজেই পরিমাপ করছেন আবার তালিকা করছেন। ভাইরাল হওয়া ছবিতে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ী ডিপো কীনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, রুমা সদর ঘাটে কলেজের পাশে অবস্থান অস্থায়ী গাছের ডিপোটি। সেই ডিপোর মালিক কে সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি তবে ডিপোটি রুমা সদর পলি রেঞ্জের অধীনে। কোন এক সওদাগর অধীনে কেরানী হিসেবে চাকরি করেন আবুল কালাম আজাদ( উজ্জল)। গেল ২০২৪ সালে অস্থায়ী এই ডিপোতে মাপঝোঁক ও তালিকা করে গাড়িতে গাছ লোড করা হচ্ছিল। লোডিং সময় বন বিভাগের কোন রেঞ্জের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিল কী না সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ছবিতে বন বিভাগের ড্রেস পড়ার অবস্থায় কাগজপত্র হাতে নিয়ে কেরানী নিজেই তদারকি করতে দেখা গেছে। এর ফলে বন বিভাগের রেঞ্জারে যোগসাজশে এমন অনৈতিক কাজ ও গাছ গুলো অবৈধভাবে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সওদাগরের কেরানী উজ্জ্বল ফরেস্ট বিভাগের কর্মকর্তা না হয়েও অফিসের পোশাক ব্যবহার করে কাঠ লোডের কার্যক্রম চালাচ্ছেন যা নিয়ম বহির্ভূত ও বিভ্রান্তিকর। তাছাড়া তার হাতে সরকারি কাগজের মতো কিছু নথিপত্র নিয়ে তিনি কাঠের গাদায় দাঁড়িয়ে নির্দেশ দিচ্ছেন। এতে বন বিভাগের দায় করছেন অনেকেই।

সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই রুমা উপজেলায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বন বিভাগের নাম ব্যবহার করে অবৈধ কাঠ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই ধরনের পোশাক পড়া ও ভূমিকায় অংশ নেওয়া তৎপরতা আরও স্পষ্ট করছে। সরকারি সংস্থার প্রশিক্ষিত বন কর্মকর্তা না হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘকাল ধরে যোগসাজশে আড়ালে অনিয়ম চলছে। বন বিভাগের অভ্যন্তরিক সংঘবদ্ধ দুর্নীতি ইঙ্গিত পাওয়া পাশাপাশি বন সম্পদ লুৎপাতের সঙ্গে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত থাকার এমন অভিযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের মাঝে অনেক সমালোচনা চলছে এবং বন বিভাগের সাথে এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়ে উঠবে তা কারো জানা ছিলনা। তবে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে তদন্ত করা হোক। যাতে পরবর্তী বন বিভাগের কাপড়গুলো যেন ব্যবহার করার কেউ সাহস না করে ।

অভিযুক্ত কেরানী আবুল কালাম আজাদ ( উজ্জল) বলেন, আমি পোশাকটি পড়েছিলাম শীতকালে একটু মজার ছলে। কাজ করার সময় আমার ব্যাল্যকালে বন্ধু ছবি তুলে ছিল ২০২৪ সালের দিকে। এখন সেই পুরনো ছবি ভাইরাল করেছে বাল্যকালে বন্ধু আর সাংবাদিকরা।

বন বিভাগের ড্রেস সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া অন্য মানুষের পড়ার আইন জানেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন বিভাগ লোক ছাড়া সাধারণ মানুষ ড্রেস পড়ার আইন নাই। তবে আমি কোন দুর্নীতি বা অনিয়মের জন্য পড়েনি। আর এখন পুরনো ছবিকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এবিষয়ে পলি রেঞ্জে দ্বায়িত্বরত রেঞ্জার অসীম বারৈ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভাইরাল ছবিটা বছর খানেক আগে তোলা। সে স্ব-ইচ্ছায় ড্রেস পড়েনি কাজ করার সময় শীত থেকে বাঁচতে কিছু সেকেন্ড জন্য পড়েছিল পড়ে আবার খুলে দেয়া হয়েছে। আর সেখানে বন বিভাগের লোকজন উপস্থিত ছিল।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ছবি ভাইরাল হয়েছে সে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের করা হবে বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বান্দরবান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন