বাল্য বিয়ে থেকে বেঁচে গেলো পেকুয়ার মেধাবী ছাত্রী সাইমা
নিজস্ব প্রতিনিধি, পেকুয়া :
এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বাল্য বিয়ে থেকে বেঁচে গেলো পেকুয়ার রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী সাইমা সোলতানা। সে পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের লালজান পাড়া এলাকার কবির আহম্মদের ৩য় কন্যা। মেধাবী ছাত্রী সাইমা সোলতানাকে সোমবার ফাশিয়াখালী এলাকার নোয়াখালী পাড়ার জামাল উদ্দিন সও এর পুত্র প্রবাসী আনচার উদ্দিনের সাথে বিয়ে দেওয়ার দিনক্ষণ ঠিক করে ফেলেছে উভয় পক্ষের লোকজন।
সবকিছু ঠিক করে ৮ জুন মেহেদী ও ৯ জুন সোমবার বিয়ের সব আয়োজন সেরে নিয়েছে উভয় পক্ষের লোকজন। ঠিক এ মুহুর্তে স্থানীয় এলাকাবাসী বাল্যবিবাহ রোধে স্বোচ্ছার হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ওই বাল্য বিবাহ বন্ধ করার জন্য মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়।
রবিবার বিকালে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মিজানুর রহমান স্থানীয় ইউপির গ্রাম পুলিশ নিয়ে গিয়ে মেয়ের বাবা কবির আহম্মদ ও মেয়ে সাইমা সোলতানার কাছ থেকে বিয়ে বন্ধ করার জন্য মুছলেকা নেয়। জন্ম নিবন্ধন অনুযাযী মেয়ের বয়স ১৭ বছর। এদিকে সাইমা সোলতানাকে জোরপূর্বক বাল্যবিবাহে রাজি হতে বাধ্য করে করছে তার পরিবার। তার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে ভাল একটি সরকারী চাকুরী করে ভবিষ্যত প্রজন্মকে আলোর দিকে নিয়ে যেতে। বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেল সাইমা। পিতামাতার কারণে বাল্য বিবাহেতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছে সাইমা সোলতানা।
এ ব্যাপারে মেয়ের পিতা কবির আহম্মদ জানান, ভালো প্রবাসী একটি পাত্র পেয়েছি বলে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। কে চাই না তার মেয়েকে ভালো পাত্রের সাথে বিয়ে দিতে।
এ ব্যাপারে রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্কুল বন্ধ হাওয়াতে বিষয়টি আমি জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে দেখব।
এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মীর শওকত হোসেন জানিয়েছেন লিখিত অভিযোগ পেয়ে বাল্য বিবাহ বন্ধ করার জন্য বিয়ে বাড়িতে লোকপাঠিয়ে বিয়ে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি।


















