ভাঙনের মুখে রেজুখাল
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার:
রেজুখালের অব্যাহত ভাঙনে গ্রামের পর গ্রাম বিলিন হতে চলেছে কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের উপকূল তীরবর্তী এলাকা। এখানকার ৪ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে এগিয়ে আসার জন্য স্থানীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদির আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এখানকার গৃহহীন পরিবারের লোকজন। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আরো শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ১০/১৫টি পরিবারের বসতবাড়ী অর্ধেক নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে। অবশিষ্ট পরিবার গুলো কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ছৈয়দ উল্লাহ (৪০) আবুল কালাম বলেন, বাপ দাদার দিনের শেষ স্মৃতি টুকু আকড়ে ধরে আছি, তাও যে কখন রাক্ষুসে নদী গিলে খায় বলা যাচ্ছে না। তারা বলেন, এ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে ৫/৬টি গ্রামের শতশত পরিবারের বসত ভিটা এককালে এসব পরিবারে ছিল গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ আর গোলা ভরা ধান। খরশ্রোতা রাক্ষুসে এ রেজু নদী হাজার হাজার পরিবারকে পথে বসালেও সরকার কোন প্রকার সাহায্যের হাত বাড়াইনি।
আরেক ভুক্তভোগী পরিবার কামাল উদ্দিন (৩৫) বলেন, সব কিছু হারিয়ে বন বিভাগের জায়গায় একটি কুড়ে ঘর বেধে স্ত্রী সন্তান নিয়ে দুবেলা দু’মোঠো পেট পুরে খাওয়া ইচ্ছা পোষণ করলেও তা হচ্ছেনা। স্থানীয় বন বিভাগের কতিপয় কর্মচারী টাকার জন্য হাত বাড়িয়ে থাকে। নইলে বসত বাড়ি উচ্ছেদ করে দেওয়ার হুমকি প্রদর্শন করে। এভাবে শতশত পরিবার অভাব অনটনে বিনীদ্র দিন কাটালেও দেখার কেউ নেই।
তৎকালীন সরকার রেজুখালের ভাঙন থেকে ঘরবাড়ি রক্ষার জন্য এলজিইডির মাধ্যমে রেজুখালের মোহনায় একটি কাঠের কুটি দিয়ে স্পার্ক নির্মাণ করলেও এক মৌসুমে উক্ত স্পার্কের অস্থিত্ব বিলিন হয়ে যায়।
স্থানীয় সমাজ সেবক জমির আহাম্মদ বলেন, রেজুখালের ভাঙনের মুখে আরো শতাধিক পরিবার রয়েছে। যে সব পরিবার গুলো আগামী বর্ষা মৌসুমে বাস করার সুযোগ পায় কিনা তা প্রকৃতির ব্যাপার।
জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, রেজুখালের ভাঙন রক্ষার জন্য ইতিপূর্বে কয়েক বার সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোন সুফল পাওয়া যায় নি। রেজুখালের ভাঙন প্রতিরোধ করতে হলে সেখানে প্রায় ১ হাজার মিটার দীর্ঘ উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন গাইড ওয়াল নির্মাণ করতে হবে। তা না হলে রেজুখালের ভাঙন অব্যাহত থাকবে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হিল্লোল বিশ্বাস জানান, ভাঙন প্রতিরোধকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট পরিপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। কার্যাদেশের অনুমতি পাওয়া গেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















