মেসি নির্ভরতা কমিয়ে দলগত শক্তির দিকে মনোযোগ আর্জেন্টিনার

fec-image

টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে গড়ে ওঠা আত্মবিশ্বাসী ও ভারসাম্যপূর্ণ এই দল এখন আর শুধু লিওনেল মেসির জাদুর ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং দলগত শক্তি ও গভীরতাই হয়ে উঠেছে আলবিসেলেস্তেদের অন্যতম বড় অস্ত্র।

আনহেল দি মারিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের পর দলে কিছু পরিবর্তন এলেও স্কালোনি তাঁর পরীক্ষিত ৪-৩-৩ ফর্মেশনেই আস্থা রাখছেন। শক্তিশালী রক্ষণভাগের সঙ্গে গতিময় ও সৃজনশীল মাঝমাঠ আর্জেন্টিনার খেলার মূল ভিত্তি। কনমেবল অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইকুয়েডরের চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। এই অভিযানে ব্রাজিলের মাটিতে পাওয়া ঐতিহাসিক জয়ও ছিল উল্লেখযোগ্য অর্জন।

তবে এবারের পথচলা সহজ হবে না বলে সতর্ক করেছেন স্কালোনি। দীর্ঘ আট বছরের সফল অধ্যায়ে তিনটি বড় শিরোপা জেতানো এই কোচের মতে, আসন্ন বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ত মৌসুম শেষে কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোট-সমস্যা কিছুটা উদ্বেগের কারণ হলেও দলের গভীরতা সেই শঙ্কা অনেকটাই কমিয়েছে।

হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্তিনেজ ও থিয়াগো আলমাদার মতো পরিচিত মুখের পাশাপাশি নতুনদের উপস্থিতিও আশাবাদ জাগাচ্ছে। বিশেষ নজর থাকবে তরুণ নিকো পাসের দিকে। ইতালিয়ান ক্লাব কোমোতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা এই মিডফিল্ডারকে টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য আবিষ্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্পেনে জন্ম নেওয়া পাস ইতোমধ্যেই আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের আবেগের কথা জানিয়ে জাতীয় দলের জার্সি বেছে নিয়েছেন।

এদিকে দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি নিজের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। টুর্নামেন্ট চলাকালে ৩৯ বছরে পা দিলেও তিনি এখনও দলের সবচেয়ে বড় প্রেরণার উৎস। তবে বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের বিশেষত্ব হলো—মেসি না থাকলেও ম্যাচ জেতার আত্মবিশ্বাস ও সামর্থ্য এখন তাদের রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পড়তে পারে ২৫ বছর বয়সী থিয়াগো আলমাদার কাঁধে। কাতার বিশ্বকাপে সীমিত সময় মাঠে নামার সুযোগ পেলেও এবার দি মারিয়ার রেখে যাওয়া শূন্যস্থান পূরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন তিনি।

মাঠের বাইরে গ্যালারিতেও থাকবে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সরব উপস্থিতি। কাতার বিশ্বকাপের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস, কানসাস সিটি ও মায়ামির স্টেডিয়ামগুলোও নীল-সাদা উন্মাদনায় ভরে উঠবে বলে প্রত্যাশা। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা কম হলেও উৎসবমুখর পরিবেশের কমতি থাকবে না।

সব মিলিয়ে, নতুন প্রজন্মের শক্তি, অভিজ্ঞতার মিশেল এবং দলগত সামর্থ্যকে পুঁজি করে নিজেদের জার্সিতে চতুর্থ বিশ্বকাপ তারকা যোগ করার স্বপ্নে এগিয়ে যাচ্ছে স্কালোনির আর্জেন্টিনা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপ, মেসি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন