রাঙামাটির পাহাড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ক্যাম্পের সন্ধান

fec-image

রাঙামাটির পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের অস্ত্র প্রশিক্ষণের ক্যাম্প পাওয়া গেছে। তবে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে কাউকে আটক করা যায়নি।

শনিবার (০৪ জানুয়ারি) হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাঙামাটির বন্দুকভাঙ্গা রেঞ্জের পাগলিছড়ি ও যমচুক এলাকায় পাহাড়ের ওপরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ক্যাম্পের সন্ধান পায় নিরাপত্তা বাহিনী। তবে সেখানে গিয়ে কাউকে ধরতে পারেনি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, পাগলিছড়ি এলাকায় যে ক্যাম্পটির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, সেটি রীতিমতো একটি ফাঁড়ি। সেই ক্যাম্পে রাস্তা তৈরি করেছে ইউপিডিএফ। এছাড়া ইউপিডিএফ সদস্যদের বসবাসের জন্যে ভবন রয়েছে। এমনকি পর্যবেক্ষণ চৌকি পর্যন্ত আছে সেখানে। অপরদিকে যমচুকের ক্যাম্পে বাঙ্কার রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে গঠিত হয়েছিল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট নামক সংগঠনটি। প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে পার্বত্য অঞ্চলকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত করার দাবি করেছিল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট। তবে এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই সশস্ত্র আন্দোলনে বিশ্বাসী। ২০০১ সালের নির্বাচনে তারা লড়াইও করেছিল। এই সংগঠনটি পার্বত্য চুক্তির বিরোধিতা করে এসেছে। এই আবহে সম্প্রতি তাদের একটি অংশ সশস্ত্র গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইতেও লিপ্ত হয়েছে তারা।

এদিকে সম্প্রতি আবার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে মায়ানমার সেনার ১২ জন সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে বান্দারবানে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহম্পতিবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে আটটা নাগাদ মায়ানমারের এই সেনা সদস্যরা ঢুকে পড়ে বাংলাদেশের বান্দারবানে। নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ৩৫ নম্বর পিলারের দক্ষিণ দিক হয়ে তারা অনুপ্রবেশ করে বলে দাবি করা হয়েছে ‘কালের কণ্ঠ’-এর রিপোর্টে। অনুমান করা হচ্ছে, আরাকান আর্মির তাড়াতেই প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে মায়ামারের এই সেনা সদস্যরা। তুমব্রু খাল পার হয়ে ভাজাবুনিয়া গ্রামে গিয়ে পৌঁছায় মায়ানমারের এই ১২ জন। তারপর গ্রামবাসীরা খবর দেয় বিজিবি-কে।

পরে সেখান থেকে বিজিবি মায়ানমারের ১২ সেনা সদস্যকে নিয়ে যায়। সেই ১২ জনকেই তুমব্রু বর্ডার আউট পোস্টে আটক করে রাখা হয়েছে। এদিকে অনুপ্রবেশ করা মায়ানমারের সেনাকর্মীদের কারও কাছেই কোনও অস্ত্র ছিল না বলে জানা গিয়েছে। মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের আবহে বাংলাদেশ সীমান্তে মাঝেমাঝেই বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। এদিকে সীমান্তের ওপারের অশান্তির আঁচ এসে পড়ছে বাংলাদেশেও। এই আবহে জুন্তার পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয় বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে। এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দাবি করেন, মায়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের নিয়ন্ত্রণে আছে তারা।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন