নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত!

fec-image

নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থী সদস্যদের আন্দামান সাগরে ফেলে দিচ্ছে ভারত। এই অভিযোগ তুলেছেন ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। এ ঘটনায় জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, রোহিঙ্গাদের জীবনকে ভারত চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০ জন রোহিঙ্গাকে স্থানীয় থানায় ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহের কথা বলে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। পরে আটক করে ইন্দরলোক আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ৭ মে বিমানযোগে তাদের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বাসে করে নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে তোলা হয়।

শরণার্থীদের অভিযোগ, জাহাজে থাকার সময় তাদের হাত প্লাস্টিক দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, চোখ-মুখ ঢেকে দেওয়া হয় এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এক রোহিঙ্গা বলেন, আমাদের বন্দির মতো রাখা হয়েছিল, অনেককে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে, বাঁশ দিয়ে খোঁচানো হয়েছে।

শরণার্থীরা আরও জানান, ৮ মে সন্ধ্যায় তাদের ছোট রাবারের নৌকায় তুলে লাইফ জ্যাকেট দিয়ে সমুদ্রে নামতে বাধ্য করা হয়। বলা হয়েছিল তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন, কিন্তু আসলে তারা ছিল মিয়ানমারে। পরদিন স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে তারা জান্তাবিরোধী বাহটু আর্মি (বিএইচএ)-এর আশ্রয়ে রয়েছেন।

এ ঘটনার পর ভারতে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। দিল্লিতে থাকা রোহিঙ্গা যুবক নুরুল আমিন বলেন, আমাদের ভেতরে এখন শুধু ভয় কাজ করছে। যে কোনো সময় ভারত সরকার আমাদেরও ধরে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দিতে পারে।

রোহিঙ্গাদের অভিযোগে বলা হয়, ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়েও তাদের জেরা করা হয়েছে। খ্রিস্টান রোহিঙ্গাদের প্রশ্ন করা হয়েছে কেন তারা ইসলাম ছেড়ে অন্য ধর্ম গ্রহণ করেছেন, এমনকি শারীরিক পরীক্ষা পর্যন্ত করা হয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ জানান, এ অভিযোগের পক্ষে তার হাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশন প্রধানের কাছে সেগুলো জমা দিলেও কোনো জবাব পাননি।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। তবে এক বিচারপতি অভিযোগগুলোকে অবাস্তব কল্পনা বলে মন্তব্য করেছেন। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সিদ্ধান্ত হবে রোহিঙ্গারা শরণার্থী নাকি অবৈধ অভিবাসী।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন