সন্ত্রাসের পর ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাওয়াই কাল হলো দুই উপজাতীয় যুবকের

fec-image

সন্ত্রাসের অনিশ্চিত জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চিত পথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন জেএসএস সামরিক শাখার দুই সদস্য। সে কারণে তারা বিভিন্ন সময়ে জেএসএস ত্যাগ করে সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। সরকার পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে তাদেরকে চট্টগ্রামে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে পুনর্বাসিত করেছিল। সাবেক সহকর্মীদের পরিকল্পিত ফাঁদে পড়ে কিংবা স্বজনদের দেখার প্রত্যাশায় তারা গোপনে ফিরে এসেছিলেন গ্রামে। আর এই সুযোগ নিয়ে প্রতিশোধ চরিতার্থ করেছে জেএসএস সশস্ত্র শাখার সন্ত্রাসীরা।

কথায় আছে, অন্ধকারের পথ একমুখী রাস্তা। এখানে ঢোকার পথ থাকলেও বেরোনোর পথ নেই। তবুও জেএসএস সামরিক শাখার দুই সদস্য শান্তিপূর্ণ ও নিশ্চিত জীবনের আশায় ঝুঁকি নিয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করেছিলেন স্বাভাবিক জীবনে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের প্রতি হিংসার শিকার হয়ে তারা শেষ হয়ে গেল তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার গল্প।

পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রাণ গেল তিন যুবকের। নিহত ঐ ৩ জন যুবক সন্তু লারমা সমর্থিত জেএসএস’ সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তারা দলছুট হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিলেন।

সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১ টার দিকে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গল পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, রিয়েল চাকমা (২১), পদ্ম চাকমা (১৯) ও ধনা চাকমা (২০)। তাদের মধ্যে রিয়েল চাকমা পানছড়ির আলীচান পাড়ায় এবং অপর দুইজনের বাড়ি রাঙ্গামটি জেলায়।

নিহত আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের একজন ১৯ মে ২০২৬ তারিখে আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং অপরজন গত বছর আত্মসমর্পণ করেন। পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাদের উভয়কে চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। তবে, তারা কাউকে অবহিত না করে চাকরিস্থল ত্যাগ করে পুনরায় পানছড়ি এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেছিলেন।

স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা এই তিন যুবক ঘটনার আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় বাজারে আসেন। বাজার থেকে টমটমে করে ফেরার পথে মধুমঙ্গল পাড়ায় পৌঁছালে ঐ তিন যুবককে একটি সিএনজির গ্যারেজের সামনে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা ৩ জন ব্যক্তির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা আনুমানিক ১০–১৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এতে আত্মসমর্পণকারী দুই সদস্যসহ মোট ৩ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, পানছড়ি, পার্বত্য চট্টগ্রাম
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন