সীমান্তের বাইশফাঁড়ী পয়েন্ট দিয়ে শিশুসহ ৭ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ : বিনিময় ৫০ হাজার টাকা


বাংলাদেশে ভর করে আছে ১৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা, তার উপর নতুন করে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে দালাল চক্রের মাধ্যমে ঢুকে যাচ্ছে রোহিঙ্গা!যা “গোদের উপর বিষফোঁড়া”।
গেল মঙ্গলবার ২৪ ডিসেম্বর ভোর অনুমান সাড়ে ৫টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ী সীমান্ত পিলার ৩৭-৩৮ পিলার মধ্যেবর্তী জায়গা থেকে শিশুসহ ৭জন রোহিঙ্গাকে বাইশফাঁড়ীর স্থানীয় কয়েকজন যুবক ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদেরকে উখিয়াস্থ কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢুকাতে সহায়তা করেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র কক্সবাজার বার্তাকে জানিয়েছেন। যাদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ হচ্ছে অনুসন্ধানে উঠে আসছে তাদের আসল চরিত্র!
তারা হলেন, বাইশফাঁড়ী এলাকার ফরিদ আলমের ছেলে রাশেল, লাগাইয়া তংচংগ্যার ছেলে জয়ন্ত তংচংগ্যা,কালু তংচংগ্যার ছেলে পিরিয়া তংচংগ্যা, মংছাছিগ তংচংগ্যার ছেলে সুমন তংচংগ্যা। মিয়ানমারের ভূখন্ডে দরদাম ঠিক করে (৫০ হাজার টাকা) এপারের পাহাড়ী পথ দিয়ে রাবার বাগান হইয়ে কুতুপালং পৌছে দিয়েছে। পৌছানো পরবর্তী কুতুপালং বাজার থেকে টাকা নিয়েছে বলেও জানিয়েছে সূত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদ্বয় জানান, তারাসহ আরো অনেকেই আছে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মিয়ানমারের তারকাটার পাশে জড়ো হওয়া রোহিঙ্গাদের সুযোগ বুঝে এপারে (বাংলাদেশ)’র বিভিন্ন পথ দিয়ে অনুপ্রবেশ করায়।
সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৬০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা আসছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৈহিদ হোসেন।
কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের প্রশ্নের জবাবে বলেন, স্থানীয়দের সাহায্য ছাড়া রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ সম্ভব নয়। তাই রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জনগণের সহায়তা প্রয়োজন।
অভিযুক্তদের কাছে জানতে চাইলে, রাশেল নামের যুবক দৌড়ে পালিয়ে যায়,বাকীরা অস্বীকার করে। তবে তারাও রাশেলসহ ৬-৭ জন’র দিকে তীর ছুটে । স্থানীয় বাসিন্দা চৈতাচিং বলেন , বেশ কিছুদিন ধরে টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহায়তা করে যাচ্ছে বাইশফাঁড়ীর এলাকার বেশকিছু যুবক, তার মধ্যে রাশেল, বাইন্যার ছেলে, মাছনসহ আরো অনেকেই জড়িত। প্রায় ১শ জনের অধিক বাইশফাঁড়ীর বাসিন্দা রোহিঙ্গাদের গন্তব্যে পৌছে দিয়ে জনপ্রতি ১ হাজার থেকে ২ হাজার করে পাই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অধিনস্থ ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) এস আই জাহিদ হাসান জানান, যারা মানব পাচারে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ ফারুক খান’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

















