২০২৫ সালে রিউমর স্ক্যানার : রেকর্ড ৪১৯৫ ভুল তথ্যে ফিরে দেখা এক বছর


- ৪১৯৫ ভুল তথ্য শনাক্ত, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি
- নির্বাচন সংক্রান্ত ৩০৯টিসহ ২২৮১ রাজনৈতিক অপতথ্য শনাক্ত
- অন্তর্বর্তী সরকারকে জড়িয়ে ৪৬৪ ভুল তথ্য, ২১২ ভুল তথ্যের শিকার ড. ইউনূস
- আ.লীগের পক্ষে, বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির বিপক্ষে বেশি অপতথ্য
- সেনাবাহিনী ২১৯, পুলিশকে নিয়ে ১৩৩ ভুল তথ্য
- ওসমান হাদি হত্যা ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য
- এআই-ডিপফেকের ব্যবহার বেড়েছে ৪০৯ শতাংশ
- গণমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ডের ব্যবহার বেড়েছে ৪৭ শতাংশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতির নানা সমীকরণ আর ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বিদায় নিল ২০২৫। বাংলাদেশের তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার গেল বছর শনাক্ত করেছে রেকর্ড ৪১৯৫টি ভুল তথ্য। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে শনাক্ত হয়েছিল ২৯১৯টি ভুল তথ্য। এক বছরের ব্যবধানে রিউমর স্ক্যানার প্রায় ৩০ শতাংশ হারে ভুল তথ্য বৃদ্ধি পেতে দেখেছে।
ফেসবুকের পাশাপাশি চিন্তায় ছিল ইনস্টাগ্রামও
ফেসবুকে ২০২৫ সালে ৩৮০৬টি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে৷ এই হিসেবে প্রতিদিন কমপক্ষে গড়ে ১০টির বেশি ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে এই প্লাটফর্মে। ফেসবুকের পর একক প্লাটফর্ম হিসেবে বেশি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে ইনস্টাগ্রামে (১১১৮টি)। এক বছরে টিকটক ও ইউটিউবে ভুল তথ্য ছড়িয়েছে যথাক্রমে ৬৭৭টি ও ৬৫৩টি৷ গেল বছর এক্সে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে বাংলাদেশকে নিয়ে। রিউমর স্ক্যানার এই প্লাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া এমন ৪৫৭টি অপতথ্য শনাক্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ছাড়াও গণমাধ্যমও ভুল তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। গত বছর দেশের গণমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত প্রতিবেদনে ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে ১১০টি৷

নির্বাচন পূর্ব বছরে রাজনৈতিক অপতথ্যই বেশি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত বছর ৩০৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। সব মিলিয়ে এক বছরে রাজনীতি বিষয়ে ২২৮১টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে, যা অন্য সকল ক্যাটাগরি থেকে বেশি৷ এই তথ্য স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে রাজনৈতিক ইস্যুই ছিল গেল বছর ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রধান ক্ষেত্র। ক্যাটাগরি হিসেবে একক মাসে ভুল তথ্য বেশি শনাক্ত হয়েছে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই (ডিসেম্বরে ৪৪৬টি)।

জাতীয় পর্যায়ের ভুয়া তথ্যের সংখ্যা ৮১৯টি, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক বিষয়ক ভুয়া তথ্য পাওয়া গেছে ৩৭৪টি।
মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরের শেষ দিকে, বিশেষ করে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ভুয়া তথ্যের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয়, শিক্ষা, খেলাধুলা এবং বিনোদন ও সাহিত্য ক্যাটাগরিতে ভুয়া তথ্যের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও এগুলো সামাজিক বিভ্রান্তি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। প্রতারণা ও অন্যান্য ক্যাটাগরিও নিয়মিতভাবে উপস্থিত ছিল।
৩য় প্রান্তিকে বেশি ভুল তথ্য
২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে মোট ৮৩৭টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়, যা তুলনামূলকভাবে কম এবং বছরের শুরুতে তথ্য পরিবেশ অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল ছিল বলে ইঙ্গিত দেয়। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫৮-এ, যা ধীরে ধীরে ভুল তথ্যের তৎপরতা বৃদ্ধির প্রতিফলন।

চতুর্থ প্রান্তিকে এই বৃদ্ধির পেছনে রাজনৈতিক ঘটনা, নির্বাচনসংক্রান্ত আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুর প্রভাব ছিল।
আ.লীগের পক্ষে, বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির বিপক্ষে বেশি অপতথ্য
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গেল বছর রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় ছিল প্রায় সবক’টি রাজনৈতিক দলই। এর মধ্যে গত বছরের ১২ মে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর আগে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় জুলাই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে দলটির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল সরকার। কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও অনলাইনে নানা ইস্যুতে বছরজুড়েই সরব দেখা গেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। পুরোনো মিছিলের ভিডিও, এআই কনটেন্ট আর ইস্যুভিত্তিক নানা অপতথ্যের প্রচারে দলটির নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা দেখা গেছে।
রিউমর স্ক্যানার প্রকাশিত গেল বছরের প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ সময়ে আওয়ামী লীগ, তার অঙ্গ-ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন এবং নেতাকর্মীদের জড়িয়ে সর্বাধিক (৯৬৬টি) অপতথ্যের প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে যে অপতথ্যগুলে প্রচার করা হয়েছে তার প্রায় ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই দলটির পক্ষে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির সুযোগ রেখেছে। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে এই সময়ে ২৭৩টি অপতথ্য (৮৮ শতাংশই ইতিবাচক) প্রচারের প্রমাণ মিলেছে।

দেশে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা দলগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) জড়িয়ে। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন এবং নেতাকর্মীদের জড়িয়ে প্রচার হওয়া ৭০২টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। এর মধ্যে দল হিসেবে বিএনপিকে জড়িয়ে ২১২টি অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে, যার প্রায় ৯৩ শতাংশই দলটিকে নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির সুযোগ রেখেছে। এছাড়া, দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে এই সময়ে ১০৯টি অপতথ্য (৬৬ শতাংশই নেতিবাচক উপস্থাপন) প্রচার করা হয়েছে।
পাঁচ শতাধিকের বেশি অপতথ্য ছড়িয়েছে এমন দলগুলোর তালিকায় আছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও। দল ও দলটির অঙ্গসংগঠন এবং নেতাকর্মীদের জড়িয়ে ৫৮৯টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দল হিসেবে জামায়াতকে জড়িয়ে প্রচার হওয়া অপতথ্যগুলোর প্রায় ৮৩ শতাংশই দলটিকে নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির সুযোগ রেখেছে। এছাড়া, দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে জড়িয়ে এই সময়ে ৫১টি অপতথ্য (৯২ শতাংশ ক্ষেত্রেই নেতিবাচক উপস্থাপন) প্রচার করা হয়েছে।
এর বাইরে জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণঅধিকার পরিষদকে জড়িয়ে যেসব অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে দল হিসেবে নেতিবাচক উপস্থাপনই ছিল বেশি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জড়িয়ে ক্রমাগত ভুল তথ্য
প্রায় দেড় বছরের কাছাকাছি সময় ধরে ক্ষমতায় আছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গেল বছর সরকার ও সরকারের উপদেষ্টাদের জড়িয়ে প্রচার হওয়া ৪৬৪টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। এর মধ্যে শুধু সরকারকে জড়িয়েই ভুল তথ্য ছড়িয়েছে ১০৭টি, যার প্রায় ৯১ শতাংশ ক্ষেত্রেই সরকারকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে জড়িয়ে গেল বছর শনাক্ত হয়েছে ২১২টি ভুল তথ্য, যার প্রায় ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই তাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ভুল তথ্যের প্রবাহ থেকে বাদ যায়নি কোনো ক্ষেত্রই
২০২৫ সালের রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একক ব্যক্তি হিসেবে গেল বছর সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্যে জড়ানো হয়েছে শেখ হাসিনার নাম। সম্মিলিত এই তালিকায় পরের অবস্থানে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন গত ডিসেম্বর খুনের শিকার হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি। রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রথম দুই অবস্থানে শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদি থাকলেও তৃতীয় অবস্থানে পাওয়া যাচ্ছে তারেক রহমানের নাম। জাতীয় ক্ষেত্রে অবশ্য ড. ইউনূস আছেন শীর্ষ অবস্থানে। পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছেন সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

দেশে সশস্ত্র এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জড়িয়ে গেল বছর ৪৯২টি ভুল তথ্য প্রচারের প্রমাণ পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার৷ এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে সর্বোচ্চ ২১৯টি ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১২৬ শতাংশ। বাহিনীটির বর্তমান প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়ে ৬৯টি ভুল তথ্য (প্রায় ২৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পূর্বের তুলনায়) শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার।
এছাড়া, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকে জড়িয়ে ৪টিসহ বাহিনীটিকে নিয়ে ২০টি এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানকে জড়িয়ে ৪টিসহ বাহিনীটিকে নিয়ে ৬টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে গত বছর।
এর বাইরে বাংলাদেশ পুলিশকে নিয়ে ১৩৩টি (প্রায় ১৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পূর্বের তুলনায়), পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমকে নিয়ে ২টি, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে জড়িয়ে ৭টি, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) নিয়ে ৯টি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) নিয়ে ১৩টি, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নিয়ে ১টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার৷
গত বছর দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া ৬৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। ক্রীড়াঙ্গনের ভুল তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব ভুল তথ্যের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছেন সাকিব আল হাসান। পরের দুই অবস্থানে আছেন যথাক্রমে তামিম ইকবাল এবং হামজা চৌধুরী।
বিনোদন জগতে বিভিন্ন বিষয়ে গুঞ্জন আর ধোঁয়াশা লেগেই থাকে সবসময়। এসবের ভীড়ে দেশের বিনোদন ও সাহিত্য অঙ্গন ঘিরে ২০২৫ সালে প্রচারিত ১৭০টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্যের শিকার হয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। এর অবস্থানে যৌথভাবে আছেন নায়িকা পরী মণি ও অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আরেক অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
নানান ইস্যুর সাথে সঙ্গী ছিল ভুল তথ্যও
দেশে গেল বছর সময়ে সময়ে নানান ইস্যুতে সরগরম ছিল ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যম। যে ৪৩টি ইস্যু রিউমর স্ক্যানার লিপিবদ্ধ করেছে তার মধ্যে ২০টিই ছিল রাজনৈতিক। এসব ইস্যুর মধ্যে ডিসেম্বর ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়া ও পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর ঘটনা প্রবাহে সবচেয়ে বেশি অপতথ্যের প্রচার দেখা গেছে৷ অর্ধশতাধিক অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে এমন ইস্যুগুলোর মধ্যে আরো ছিল ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের লকডাউন, সেপ্টেম্বরের ডাকসু নির্বাচন।

রাজনৈতিক ছাড়াও জাতীয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ক্রীড়াঙ্গন, ধর্মীয়সহ নানান ইস্যুতেই গেল বছর ভুল তথ্যের প্রবাহ লক্ষ্য করা গেছে। সবমিলিয়ে দেশে গত বছর ৪৩টি ইস্যুতে ৭৯৬টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার।
সাম্প্রদায়িক অপতথ্যে ভারতীয়রা
ধর্মীয় বিষয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ হয়ে উঠছে সাম্প্রদায়িক ভুল তথ্য। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক অপতথ্য প্রচারের বিষয়টি গেল বেশ কয়েক মাস ধরে আলোচনায়। ২০২৫ সালে ১৬৫টি সাম্প্রদায়িক অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। এর মধ্যে ৯৪টি ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয় পরিচয়ধারী অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুধু সাম্প্রদায়িক অপতথ্যই নয়, বাংলাদেশকে জড়িয়ে নানা ঘটনায় নিয়মিতই অপতথ্যের প্রচার চলছে ভারতীয় গণমাধ্যমে। ২০২৫ সালে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ৩৬টি সংবাদে বাংলাদেশকে জড়িয়ে অপতথ্যের প্রচার দেখেছে রিউমর স্ক্যানার।
এআই-ডিপফেক আর গণমাধ্যমের ভুয়া ফটোকার্ড নিয়ে দুশ্চিন্তা
২০২৪ সালের ধারাবাহিকতায় গত বছরও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিপফেক প্রযুক্তির কারসাজির মাধ্যমে ভুল তথ্যের প্রচার ও প্রসার বেশ লক্ষ্যণীয় ছিল। গত বছর ৮৬টি ডিপফেক ভিডিওসহ সর্বমোট ৬০৬টি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে, যাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে, যা গেল বছরের তুলনায় প্রায় ৪০৯ শতাংশ বেশি।
গণমাধ্যমের নাম, লোগো, শিরোনাম এবং নকল ও ভুয়া ফটোকার্ড ব্যবহার করে ২০২৫ সালে ৬৮৭টি ঘটনায় দেশ-বিদেশি ৭৫টি সংবাদমাধ্যমকে জড়িয়ে ৭৪৪টি ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন দুইটির বেশি ভুল তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমকে জড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫০৫টি। গেল বছর এই পদ্ধতির ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি জড়ানো হয়েছে এমন তালিকায় আছে দৈনিক আমার দেশ (১০৬টি), যমুনা টিভি (৮৯টি) ও দৈনিক কালের কণ্ঠ (৭৮টি)।
কাজের পদ্ধতি
এই পরিসংখ্যানটি রিউমর স্ক্যানারের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর উপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে। পরিসংখ্যান প্রকাশের নিমিত্তে নিয়মিত গত ১২ মাসের প্রতিটি প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এরপর তথ্য-উপাত্তগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত তুলনা করা হয়েছে চলতি ২০২৪ সালের তথ্য-উপাত্তের সাথে। পরবর্তীতে সেগুলোকে ইনফোগ্রাফিক এবং লেখার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।
















