প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্তিতে খাগড়াছড়ির জনগণ: জেলা নির্বাচন কমিশনের অদক্ষতার সমালোচনা সর্বত্র
পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:
একবার প্রার্থিতা বাতিল, আবার বৈধ করে প্রতীক বরাদ্দ দেয়ায় খাগড়াছড়ি জেলায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থি নিয়ে জেলার ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তার দক্ষতা নিয়ে। ভোটারদের অভিযোগ, সমঝোতা ও কারসাজির মাধ্যমে জেলা প্রশাসন বিশেষ উদ্দেশ্যে এই বিভ্রান্তি তৈরী করেছে।
অন্যদিকে নির্বাচনে না যাবার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে রওশন এরশাদের নাম ভাঙিয়ে নির্বাচনী মাঠে সরব উপস্থিত হয়েছেন জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলাইমান শেঠ। যদিও রওশন এরশাদ এখনো প্রকাশ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো নির্দেশ কাউকে দেননি। গতকাল একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এবিষয়ে অবস্থান পরিস্কার করার কথা থাকলেও এরশাদের হুমকির মুখে অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে শেষ মূহুর্তে তা বাতিল করে দেন রওশন এরশাদ। তবু নির্বাচন করতে সোলাইমান শেঠ অনড়। এদিকে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে জাতীয় পার্টির প্রতীক লাঙ্গল কাউকে না দেয়ার জন্য পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি দেয়া সত্ত্বেও সারাদেশের মতো সে চিঠি প্রত্যাখ্যান করে সোলাইমান শেঠকে লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন কমিশন।
এদিকে জাপা চেয়ারম্যানের নির্বাচনে অংশগ্রহণের নির্দেশ বহাল থাকা, তার নির্দেশ অমান্যকারীদের বহিস্কার করার ঘোষণা এবং তাকে ‘হাসপাতালে জোর করে আটকে’ রাখার সিদ্ধান্তে খাগড়াছড়িতে জাতীয় পার্টির জেলা ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা নির্বাচনী মাঠে সরব নয়। তাদের অনেকের অভিযোগ জাতীয় পার্টির নামে যিনি নির্বাচন করছেন তিনি মৌসুমী প্রার্থী। চট্টগ্রাম ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেই তিনি বেশী সরব। অতীতে জেলার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে খুব একটা পাওয়া যায়নি।
এদিকে নানা নাটকীয়তার মাধ্যমে প্রার্থিতা ও নৌকা প্রতীক ফিরে পেলেও কেন্দ্রীয় সমঝোতার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। সমঝোতার প্রার্থী সোলাইমান শেঠ খাগড়াছড়িতে প্রকাশ্য জনসভায় ঘোষণা করেছেন, কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা প্রার্থিতা ও প্রতীক ফিরে পেলে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তিনি নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকতে পারবেন না। এ বিষয়ে কুজেন্দ্র লালের সিদ্ধান্ত জানতে একাধিকবার তার মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বিভ্রান্তি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে একই অজুহাত দেখিয়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফ’র অন্যতম শীর্ষ নেতা উজ্জল স্মৃতি চাকমা’র প্রার্থিতাও ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থি হিসাবে। ফলে একই আসনে নির্বাচনী মাঠে এখন ইউপিডিএফ’র দুই শীর্ষ নেতা। এটা কি ইউপিডিএফ’র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ নাকি বিশেষ প্রার্থিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে জেলা প্রশাসন বিশেষ নির্দেশে এ জটিলতার সৃষ্টি করা হয়েছে। এ নিয়েও জেলার ভোটারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রার্থিতা ফিরে পেলেও উজ্জল স্মৃতি চাকমা প্রতীক বরাদ্দ নিতে হাজির হননি।
এদিকে শুক্রবার বিকালে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করায় কুজেন্দ্রলালের নেতাকর্মীরা সারারাত হতাশায় ভূগলেও শনিবার জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মাসুদ করিম প্রার্থীতা প্রত্যাহারপত্র ত্রুটিপূর্ণ থাকায় প্রার্থীতা প্রত্যাহার হয়নি বলে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে আওয়ামীলীগ প্রার্থী হিসেবে ‘নৌকা’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ায় প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে কুজেন্দ্রর সমর্থরা। একই অজুহাতে দুই প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সকল মহলে সর্বত্র সমালোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ‘কিভাবে সম্ভব হলো’?
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ নুরুল আলমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি পার্বত্যনিউজকে জানান, গতকাল শুক্রবার বিকাল ৫টার মধ্যে বাছাইকৃত ৫জন প্রার্থীর মধ্যে ২জন প্রার্থীর পক্ষের প্রতিনিধি এসে প্রার্থিতা প্রত্যাহার পত্র জমা দেয়। প্রার্থিতা জমা ও প্রত্যাহার পত্রের স্বাক্ষরে মিল পাওয়ায় তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের বিষয়টি গণমাধ্যম প্রচার করা হয়। তবে রাতে রিটার্নিং অফিসার তা যাচাই করে ত্রুটি খুঁজে পেলে তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার পত্র গহণ করা হয়নি। তিনি জানান, ১৯৭২ সালের ১৬ (১) এর ধারা মোতাবেক প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়নি। এই সময় তিনি নির্বাচনী আইন এ প্রতিনিধিকে ব্যক্ত করেন।
এ আইনটি গতকাল তার জানা ছিল কিনা প্রশ্ন করা হলে জেলা নির্বাচন কমিশন অফিসার জানান, এসব বিষয় রিটার্নিং অফিসারের বিষয়। তিনি ত্রুটি পেয়েছেন তাই প্রার্থী প্রত্যাহার করেননি। তিনি বলেন, ১৬ (১) ধারা মতে, প্রার্থীর পক্ষে যদি তার মনোনীত কোনো ব্যাক্তি এসে প্রত্যাহার পত্র জমা দেন তবে তাকে প্রার্থী কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত হতে হবে। যেহেতু তাদের তাদের কারো নিকট প্রার্থী কর্তৃক ক্ষমতাপত্র ছিল না। তাই আইন অনুযায়ী প্রার্থীতা বহাল রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মাসুদ করিম এ প্রতিনিধিকে জানান, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমার প্রার্থিতা বহাল রয়েছে। ১৯৭২ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৬ (১) বিধি মোতাবেক প্রার্থীরা স্ব-শরীরে বা ক্ষমতাবলে কোন প্রতিনিধি প্রেরণ না করায় তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা হয়নি।



















